গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডিএসএফের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল হক নুরের নির্বাচনী হলফনামা ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিলের পর বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা, যা দেশের কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের ঘোষিত আয়ের চেয়ে বেশি।
হলফনামা অনুযায়ী, নুরের ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা, আর অন্যান্য উৎস থেকে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা যুক্ত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ১৬ লাখ টাকা।
বার্ষিক আয়ের দৌড়ে নুর এগিয়ে থাকলেও মোট সম্পদের ক্ষেত্রে তার অবস্থান শীর্ষে নয়। হলফনামা প্রকাশে দেখা যায়, তারেক রহমানের মোট সম্পদ এক কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি, আর ডা. শফিকুর রহমানের সম্পদ এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা। অন্যদিকে, নুরের মোট সম্পদ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
নুরের সম্পদের বিশদে দেখা যায়, তার নগদ রাশি ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। তিনি কোম্পানি শেয়ারে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানত ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা।
সম্পত্তি দিক থেকে নুরের নামে ৮২ ডেসিমেল জমি রয়েছে, আর তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে অতিরিক্ত ৩ একর কৃষিজমি। তার মোট দায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা, তবে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
মারিয়া আক্তার শিক্ষিকা পেশায় যুক্ত এবং তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা, মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। পরিবারিক তথ্য থেকে জানা যায়, নুরের তিনটি সন্তান আছে এবং তিনি তার বাবা-মা ও ভাইবোনের জন্যও নির্ভরশীল হিসেবে তালিকাভুক্ত।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নুরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান, তবে পূর্বে আটটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। এই আইনি প্রেক্ষাপট তার নির্বাচনী প্রচারণায় কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত।
আসন্ন নির্বাচনে নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জোটগত সমঝোতার ফলে ওই আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দাখিল করেনি, ফলে নুরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রধানত অন্যান্য দলই থাকবে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নুরের উচ্চ আয় ও সম্পদ তার রাজনৈতিক প্রোফাইলকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে তার আর্থিক স্বচ্ছতা ও চলমান মামলার বিষয়টি বিরোধীদের প্রশ্নের জন্ম দেবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, নুরের আর্থিক শক্তি তার নির্বাচনী প্রচারণায় অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহার করতে সক্ষম করবে, যা ভোটারদের কাছে তার প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে। তবে আইনি চ্যালেঞ্জ ও বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা তার কৌশলকে জটিল করতে পারে।
নুরের নির্বাচনী প্রস্তাবনা ও আর্থিক তথ্যের প্রকাশের ফলে পার্টি অভ্যন্তরে এবং জোটের মধ্যে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তার আর্থিক স্বচ্ছতা ও আইনি অবস্থান ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী ভূমিকা রাখবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।
এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হলফনামা থেকে নেওয়া, যা নুরের আর্থিক ও সম্পদগত অবস্থার পূর্ণ চিত্র প্রদান করে, এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তুলনা করে তার অবস্থান নির্ধারণে সহায়ক।



