ইউএসসি অ্যানেনবার্গ ইনক্লুশন ইনিশিয়েটিভের বার্ষিক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বক্স অফিসে সর্বোচ্চ আয়কারী ১০০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে কেবল নয়জন নারী পরিচালক কাজ করেছেন, যা মোট পরিচালকের ৮.১ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের ১৩.৪ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ২০১৮ সালের ৪.৫ শতাংশের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের শীর্ষ বক্স অফিসে নারী পরিচালকের অংশীদারিত্বের হ্রাস কেবল সংখ্যা নয়, বরং শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। ২০২৪ সালে ১৩.৪ শতাংশের শীর্ষস্থান থেকে এই পতনটি শিল্পের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ফলাফল বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনকে ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হলেও, প্রকৃত কারণ হল স্টুডিওগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও গ্রীনলাইট প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশন শুরু হয়ে থাকায়, নতুন নীতি বা ডিইআই (DEI) উদ্যোগের প্রভাব সীমিত রয়ে গেছে।
গবেষণার প্রতিষ্ঠাতা ড. স্টেসি এল. স্মিথের মন্তব্যে বলা হয়েছে, নারী পরিচালকদের অগ্রগতি সাময়িক এবং ধারাবাহিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, হোলিউডের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিইআই প্রোগ্রামগুলোতে হ্রাস দেখা গেছে, যা নারী পরিচালকদের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।
রঙের বৈচিত্র্য সম্পর্কেও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। শীর্ষ ১০০ বক্স অফিসে মোট পরিচালকের ২৪.৩ শতাংশ অপ্রতিনিধিত্বশীল জাতিগত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এই গোষ্ঠীর মধ্যে নারী পরিচালকের অংশীদারিত্বও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশেষভাবে, ২০২৫ সালে নারী পরিচালকের মধ্যে ৫.৪ শতাংশ ছিলেন রঙিন নারী, আর ২.৭ শতাংশ ছিলেন শ্বেতাঙ্গ নারী। এ বছর প্রথমবার রঙিন নারী পরিচালকের সংখ্যা শ্বেতাঙ্গ নারীর চেয়ে বেশি হয়েছে, যা একটি নতুন প্রবণতা নির্দেশ করে।
স্টুডিও পর্যায়ে দেখা যায়, ডিজনি ২০২৫ সালের শীর্ষ চলচ্চিত্রে নারী পরিচালকের নিয়োগে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। ডিজনি’র বেশ কয়েকটি ব্লকবাস্টার প্রকল্পে নারী পরিচালককে প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা শিল্পে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, প্যারামাউন্ট পিকচার্স, ওয়ার্নার ব্রাদার্স এবং লায়ন্সগেটের শীর্ষ চলচ্চিত্রে কোনো নারী পরিচালক জড়িত নয়। এই তিনটি বড় স্টুডিও তাদের নির্বাচনী নীতি ও উৎপাদন পরিকল্পনায় নারী পরিচালকের অন্তর্ভুক্তি কমিয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নেটফ্লিক্স ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের একচেটিয়া রিলিজগুলো এই বিশ্লেষণের বাইরে রাখা হয়েছে। স্ট্রিমিং ভিত্তিক চলচ্চিত্রে নারী পরিচালকের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা থিয়েটার ভিত্তিক বক্স অফিসের তুলনায় ভিন্ন চিত্র প্রকাশ করে।
স্ট্রিমিং সেবার উচ্চতর প্রতিনিধিত্বের কারণ হিসেবে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিইআই নীতি সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করেছে এবং নতুন প্রতিভা আবিষ্কারে বেশি উন্মুক্ত। ফলে, থিয়েটার-ভিত্তিক বক্স অফিসে দেখা হ্রাসের বিপরীতে স্ট্রিমিং জগতে নারী পরিচালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালের ডেটা হোলিউডের নারী পরিচালকের অবস্থানকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। যদিও মোট সংখ্যা কমে গেছে, তবে রঙিন নারীদের অংশীদারিত্বের বৃদ্ধি এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ইতিবাচক ভূমিকা ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সূচক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, স্টুডিওগুলোকে গ্রীনলাইট পর্যায়ে থেকেই বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিকোণকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নারী পরিচালকের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে শিল্পের সৃজনশীলতা ও বাজারের বৈচিত্র্য দুটোই সমৃদ্ধ হবে।
অবশেষে, এই গবেষণা হোলিউডের বর্তমান চিত্রকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। নারী পরিচালকের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সমন্বিত নীতি ও সচেতনতা প্রয়োজন, যাতে সিনেমা দর্শকদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় কাহিনী তৈরি হয়।



