পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক আজ ঢাকায় চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে রাষ্ট্রিক অতিথি বাড়ি জামুনায় একটি শিষ্টাচারিক সাক্ষাৎ করেন। তিনি খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন। সাদিকের বিমান দুপুর ১১:৫০ টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, যেখানে পাকিস্তানের উচ্চ কমিশনার ইমরান হায়দার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে সাদিককে স্বাগত জানাতে পাকিস্তানের উচ্চ কমিশনার ইমরান হায়দার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের মুখপাত্র ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাসুদ উল্লেখ করেন, সাদিকের ফ্লাইটটি প্রায় ১১:৫০ টায় ল্যান্ড করেছে এবং নিরাপদে টার্মিনালে পৌঁছেছে। এ সময়ে সাদিকের নিরাপত্তা দল এবং স্থানীয় প্রোটোকল কর্মীরা সমন্বয় করে তার আগমনকে যথাযথভাবে পরিচালনা করেন।
বিমানবন্দরে স্বাগত জানার পর সাদিককে রাষ্ট্রিক অতিথি বাড়ি জামুনায় নিয়ে গিয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে একটি শিষ্টাচারিক সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। এই সাক্ষাৎকারে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ পায় এবং দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাদিকের এই সফরকে পাকিস্তানের উচ্চতর রাজনৈতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাদিকের মূল উদ্দেশ্য ছিল খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা। তিনি বাংলাদেশে আসার আগে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্যও সময় বের করেছেন। খালেদা জিয়া, যিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে। তার শেষকৃত্যকে সম্মান জানাতে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক অতিথিরা একত্রিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়াকে তার স্বামী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই সমাধি স্থানটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং বহুবার রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি নেতারা, এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা, যারা সবাই শোক প্রকাশের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।
খালেদা জিয়ার সমাধি এবং সাদিকের উপস্থিতি দু’টি স্বতন্ত্র ঘটনা হলেও, উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। পাকিস্তানের স্পিকারের উপস্থিতি বাংলাদেশে পারস্পরিক সম্পর্কের মজবুতীকরণ এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, খালেদা জিয়ার সমাধি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, সাদিকের সফর এবং চিফ অ্যাডভাইজার ইউনুসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। দু’দেশের বাণিজ্যিক বিনিময়, শিক্ষামূলক সহযোগিতা এবং সীমানা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া, এই সফর দু’দেশের পার্লামেন্টারিয়ান সংযোগকে শক্তিশালী করে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, সর্দার আয়াজ সাদিকের ঢাকা সফর এবং খালেদা জিয়ার সমাধি উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করেছে। দু’টি ঘটনাই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন, কূটনৈতিক সংলাপের বিস্তার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই দুই ঘটনার পরিণতি কী রকম হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



