20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার খালেদা জিয়ার সমাধি পরিদর্শনে হাতমিলেন

ভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার খালেদা জিয়ার সমাধি পরিদর্শনে হাতমিলেন

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, দুজনেই বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার শেষ সমাধি অনুষ্ঠান পরিদর্শন করে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দুজনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন এবং একে অপরকে হাতমিলিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়া, যিনি বহুবার দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, ২০২৪ সালের শেষের দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তার শেষ সমাধি অনুষ্ঠান ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের শোকের স্রোত দেখা যায়। সমাধি স্থানে উপস্থিতির মাধ্যমে দু’দেশের শীর্ষ নীতি নির্ধারকদের একত্রিত হওয়া একটি বিরল ঘটনা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক নীতি পরিচালনা করেন, বাংলাদেশে তার সরকারি সফরের অংশ হিসেবে সমাধি স্থলে গমন করেন। তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন যে, “দুই দেশের বন্ধুত্বের ঐতিহ্যকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব”।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও একই সময়ে সমাধি স্থলে উপস্থিত হন। তিনি পাকিস্তানের সরকারকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমর্থন জানিয়ে, “শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন” বলে মন্তব্য করেন।

দুজনের মধ্যে হাতমিলানো এবং সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময়কে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উভয় পক্ষই সমাধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একে অপরের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের মাধ্যমে মানবিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

এই সাক্ষাৎটি মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো শীর্ষ নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংযোগ। যুদ্ধের পরপরই দু’দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে সরাসরি সংলাপের সুযোগ কমে গিয়েছিল, ফলে এই ধরনের উচ্চস্তরের পারস্পরিক ক্রিয়া বিরল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ধারাবাহিক উত্তেজনার মুখে ছিল। বিশেষ করে এপ্রিলে কাশ্মীরের সন্ত্রাসী হামলার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়, যা সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে দেয় এবং কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত করে।

এই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার সমাধি অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি, পারস্পরিক সমবেদনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়, ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সংলাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সংলাপের দরজা খুলে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের মানবিক ও রাজনৈতিক সমাবেশ দু’দেশের মধ্যে অবশিষ্ট অবিশ্বাস দূর করতে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবিক নীতি পরিবর্তন ও সমঝোতা অর্জনের জন্য আরও ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।

সারসংক্ষেপে, খালেদা জিয়ার শেষ সমাধি অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের স্পিকারের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সূচনার ইঙ্গিত দেয়। এটি কেবল শোকের মুহূর্ত নয়, বরং ভবিষ্যতে শান্তি ও সহযোগিতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments