রাজস্থ্রের টঙ্ক জেলায় গাড়ি থেকে ১৫০ কেজি অবৈধ বিস্ফোরক পদার্থ জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটি ইউরিয়া সারের ব্যাগের ভিতরে লুকিয়ে থাকা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সঙ্গে অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী বহন করছিল। গাড়ির ভিতরে প্রায় ২০০টি বিস্ফোরক কার্তুজ এবং ছয়টি বান্ডিল নিরাপত্তা ফিউজ তার (মোট প্রায় ১,১০০ মিটার) পাওয়া গিয়েছে।
গাড়ি জব্দের সময় টঙ্কের বারোনি থানা এলাকায় গাড়িটিকে থামানো হয় এবং গাড়ির চালক ও সহচরদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুইজনের নাম সুরেন্দ্র মুচি ও সুরেন্দ্র পাটওয়া, যাঁরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনরা বিস্ফোরক সামগ্রীকে টঙ্ক থেকে অন্য স্থানে সরবরাহের জন্য গাড়ি ব্যবহার করছিলেন।
গাড়ি ও বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দের পর পুলিশ দল সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষ করে জানতে চাচ্ছেন, এই গাড়ি কি খনির অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা এবং বিস্ফোরক সামগ্রী কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো। গাড়িটি, যা মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে জব্দ করা হয়েছে।
ডিএসপি মৃত্যুঞ্জয় মিশ্রের মতে, গোপন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর একটি বড় অপারেশন চালু করা হয়। অপারেশনের অংশ হিসেবে গাড়ি থেকে বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করা হয় এবং দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মামলার সব দিক তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি সাদা স্ফটিক রূপের রাসায়নিক, যা প্রধানত সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এর বিস্ফোরণশীল গুণের কারণে এটি অবৈধভাবে বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গত মাসে দিল্লির লাল কেল্লা এলাকায় ঘটিত বিস্ফোরণে উচ্চ গ্রেডের বিস্ফোরক পদার্থের সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে হরিয়ানা রাজ্য থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছিল। একই সময়ে দিল্লিতে একটি গাড়ি বিস্ফোরিত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এই ধারাবাহিক ঘটনার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অংশে বোমা হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জব্দকৃত গাড়ি ও বিস্ফোরক সামগ্রী নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশন ও তদন্ত বিভাগকে যোগাযোগ করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিস্ফোরক সামগ্রীর অবৈধ সরবরাহ বন্ধ করতে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তীব্রভাবে কাজ করছে।



