ইস্তাম্বুলের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি ইয়েরলিকায়া বুধবার দেশের ২৫টি প্রদেশে একসাথে পরিচালিত অপারেশনে ১২৫ জন ইস্লামিক স্টেট (ডা’এশ) সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করেছেন। এই গ্রেফতারগুলো ছুটির দিনগুলোতে গৃহীত হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়, যেখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বড়দিন ও নববর্ষের সময় আক্রমণ পরিকল্পনা করছিল বলে জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের টুইট অনুসারে, আজ সকালের অপারেশনগুলো একাধিক শহরে সমন্বিতভাবে চালানো হয় এবং গ্রেফতারকৃতদের তালিকায় বিভিন্ন প্রোফাইলের ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, যাদের ইস্লামিক স্টেটের সঙ্গে সংযোগের সন্দেহ রয়েছে।
এই ১২৫ গ্রেফতারকে যুক্ত করে, গত সপ্তাহে তুরস্কে মোট প্রায় ৬০০ সন্দেহভাজীকে আটক করা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান।
বছরের শেষের দিকে, বড়দিনের দিনই নিরাপত্তা বাহিনী ১১৫ জন সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করে, যখন গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যায় যে সন্ত্রাসীরা ক্রিসমাস ও নববর্ষের উদযাপনের সময় আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
সেই একই সপ্তাহে, তুরস্কের উত্তর-পশ্চিম উপকূলীয় শহর ইয়ালোভায় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে গুলিবিদ্ধ করে, যার ফলে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং নয়জন আহত হন।
ইয়ালোভা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ছয়জন ইস্লামিক স্টেট সশস্ত্র সদস্যকে গুলিবিদ্ধ করে নিহত করা হয়। এই সংঘর্ষটি মারমারা সাগরের তীরে অবস্থিত শহরে ঘটেছে, যা ইস্তাম্বুলের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে।
ইয়ালোভা ঘটনার পরের দিন, নিরাপত্তা বাহিনী ২১টি প্রদেশে সমন্বিতভাবে আর ৩৫৭ জন সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করে, যার মধ্যে ইস্লামিক স্টেটের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই ধারাবাহিক গ্রেফতার অভিযানগুলো তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি আফগানিস্তান- পাকিস্তান সীমান্তে একটি উচ্চপদস্থ তুর্কি নাগরিককে ধরার পর শুরু হয়। রাষ্ট্র সংবাদ সংস্থা আনাদোলু অনুযায়ী, এই ব্যক্তির নাম মেহমেট গোরেন এবং তিনি ইস্লামিক স্টেটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
গোরেনকে ইস্লামিক স্টেটের আদেশে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইউরোপে আত্মঘাতী হামলা পরিকল্পনা ও সমন্বয় করার দায়িত্ব দেওয়া ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার গ্রেফতার তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়।
তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থা ১ জানুয়ারি ২০১৭-এ ইস্লামিক স্টেটের একটি রাত্রিকালীন আক্রমণকে স্মরণ করে, যখন ইস্তাম্বুলের একটি নাইটক্লাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩৯ জনের বেশি প্রাণ হারায়, যার বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক। সেই ঘটনার দায়ী উজবেক গুলিবিদকে ৪০টি আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ইয়েরলিকায়া তার টুইটে যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তুরস্কে আক্রমণ করার চেষ্টা করলে তারা দেশের শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের মুখোমুখি হবে বলে সতর্কবার্তা জারি করেন।
গ্রেফতারকৃত সকল সন্দেহভাজীকে এখন তুর্কি বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রসিকিউশন করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক আদালতগুলোতে অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং নিরাপত্তা সংস্থা অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে মামলার বিশদ প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান তুরস্কের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে চালু রয়েছে, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করার লক্ষ্যে ব্যাপক সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



