মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে স্থান না পেয়ে বিশাল ভিড় পার্শ্ববর্তী গলি, গ্যারেজ ও রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে; ঘটনাটি বুধবার দুপুর তিনটায় ইন্দিরা রোডের কাছাকাছি পর্যবেক্ষণ করা যায়। সংসদ ভবন এলাকা থেকে ফার্মগেট‑কারওয়ান বাজার অতিক্রম করে কাতার (কিউইং) তৈরি করে শাহবাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জনসংখ্যার প্রবাহ এতটাই তীব্র যে মানুষজনকে পিছনে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে গ্যারেজ, ছোট‑বড় গলি ও খালি জমি এখনো অস্থায়ী শিবিরে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে কাতারগুলো সরাসরি দাঁড়িয়ে আছে।
বহু গৃহস্থালির গ্যারেজে গাছের গাছের মতো কাতার সাজানো দেখা যায়, আর গলিগুলোতে অস্থায়ী তক্তা ও চাদর ব্যবহার করে মানুষ বিশ্রাম নিচ্ছেন। এই অপ্রত্যাশিত ভিড়ের ফলে রাস্তায় চলাচল ধীর হয়ে গেছে এবং যানবাহনের গতি হ্রাস পেয়েছে।
মোহাম্মদ রফিক, মিরপুর থেকে আসা এক ভিড়ের অংশগ্রহণকারী, বলেন, “এত মানুষ! কোনোভাবেই মানিক মিয়ায় ঢুকতে পারলাম না। বরং যারা মানিক মিয়ায় ছিল, তাঁরা উল্টো দিকে ফিরছে। হাজার হাজার মানুষের চাপে আমি উল্টো পথে এসে এখানে অবস্থান নিয়েছি।”
রফিকের কথায় স্পষ্ট যে, ভিড়ের চাপের ফলে মূল গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং মানুষকে বিকল্প স্থানে থামতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “যদি না কেউ থেমে থাকে, তবে পুরো সড়কই বন্ধ হয়ে যেত।”
মোহাম্মদ উজ্জ্বল, মতিঝিল থেকে আসা আরেকজন ভিড়ের অংশগ্রহণকারী, বলেন, “আগে জানাজায় এত মানুষ দেখিনি। আমি খামারবাড়ি মোড়ে ছিলাম, হঠাৎ প্রচুর ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গেলাম। দেখলাম, মানিক মিয়া থেকে লোকজন এদিকে ফিরছে, কারণ ওখানে আর জায়গা নেই।”
উজ্জ্বল আরও উল্লেখ করেন, “মানুষের চাপে আমার দুইজন সঙ্গী পড়ে গিয়েছিলেন। খুব চিৎকার করার পর লোকজনের গতি একটু কমলে তাঁরা উঠে দাঁড়ান, নইলে তাঁরা আজ আহত হয়ে যেতেন।” তার বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে, ভিড়ের অতিরিক্ত চাপের ফলে শারীরিক আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও কোনো গুরুতর আহতের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অস্থায়ী ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করেন। গ্যারেজ ও গলিতে অস্থায়ী সাইনবোর্ড ও রোডব্লক স্থাপন করা হয়, যাতে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কাতারগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে রাখা যায়।
অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনাকে শহরের জনসাধারণের স্থান ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নীতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, নির্বাচনী মৌসুমের কাছাকাছি এই ধরনের ভিড়ের বৃদ্ধি রাজনৈতিক নেতাদের জন্য জনমত গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে স্থান সংকটের ফলে ভিড় গলি‑গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ট্র্যাফিক জ্যাম, অস্থায়ী শিবির এবং কিছু শারীরিক আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে স্থান পরিকল্পনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রয়োজন।



