22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসুদানের কোরডোফানে যুদ্ধের তীব্রতা, মানবিক সংকট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানের কোরডোফানে যুদ্ধের তীব্রতা, মানবিক সংকট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ডিসেম্বর ২০২৫

ডিসেম্বর ২০২৫-এ সুদানের কোরডোফান অঞ্চলে তীব্র যুদ্ধের দৃশ্য দেখা গিয়েছে, যেখানে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) এবং সরকার সমর্থিত সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (SAF) প্রধান ভূমিকা পালন করছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের ফলে প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়েছে।

যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু পূর্বে দারফুরে সীমাবদ্ধ থাকলেও, গত বছর থেকে কোরডোফানের তেলক্ষেত্র ও প্রধান সড়ক নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত হয়েছে, যা দেশের উত্তর ও দক্ষিণকে শারীরিকভাবে আলাদা করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে সুদানের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

RSF ডিসেম্বর মাসে আক্রমণাত্মকভাবে অগ্রসর হয়ে তেল উৎপাদন কেন্দ্র, পাইপলাইন এবং সংরক্ষণাগার দখল করেছে। একই সঙ্গে তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের চারপাশে অবরোধ স্থাপন করে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

প্রতিক্রিয়ায় SAF বায়ু হামলা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষত কোরডোফানের প্রধান শহরগুলোকে লক্ষ্য করে। বোমা হামলা ও গুলি চালনার ফলে বেসামরিক নাগরিকের ক্ষতি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বহু পরিবার শরণার্থী ক্যাম্পে স্থানান্তরিত হয়েছে।

ইউনাইটেড নেশনস মানবিক সংস্থা ডিসেম্বরের শেষে একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে, যেখানে তারা ২০২৬ সালে লক্ষ লক্ষ মানুষকে তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থা ‘সারভাইভাল মোড’ নামে একটি অপারেশন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, যা তহবিলের তীব্র ঘাটতির কারণে সীমিত কার্যকর হতে পারে।

ইউএন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার তহবিল কাটছাঁটের ফলে মানবিক সহায়তা প্রোগ্রামগুলো পূর্বের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। ফলস্বরূপ, খাবার, ওষুধ এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা রোগের বিস্তার এবং মৃত্যুর হার বাড়িয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, যদি তহবিলের ঘাটতি অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সুদানের উত্তর ও দক্ষিণে ব্যাপক ক্ষুধা সংকট দেখা দিতে পারে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং ইউএন নিরাপত্তা পরিষদে এই পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি দেশ মানবিক সহায়তা বাড়াতে এবং সংঘাতের সমাপ্তি ত্বরান্বিত করতে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “কোরডোফানে সংঘাতের বিস্তার সুদানের ঐতিহাসিক বিভাজনের ঝুঁকি পুনরুজ্জীবিত করছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপই একমাত্র সম্ভাব্য সমাধান।” এই মতামতটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই দেশের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে শারীরিক বিভাজনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে দুই স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে। এ ধরনের বিভাজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

পরবর্তী কয়েক মাসে জাতিসংঘের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষকে ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। তবে পূর্বের চুক্তির পুনরায় লঙ্ঘনের ইতিহাস বিবেচনা করে, এই লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ সুদানের কোরডোফানে যুদ্ধের তীব্রতা, মানবিক সংকটের তীব্রতা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি জটিল চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে, যেখানে তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান উভয়ই প্রয়োজন।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments