বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নোয়াখালি এক্সপ্রেস দল শিলেট পর্যায়ের তিনটি ম্যাচ শেষ করার পর চট্টগ্রাম ভ্রমণ করে। তবে চট্টগ্রামে কোনো ম্যাচ হবে কিনা তা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং দলটি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করছে।
মূল সূচি অনুযায়ী শিলেটের ম্যাচগুলো ২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা ছিল, আর চট্টগ্রাম পর্যায় ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল। এই পরিকল্পনা হঠাৎ বদলে যায় যখন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মঙ্গলবারের ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়।
মঙ্গলবারের ম্যাচ স্থগিতের পর বুধবারকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়, ফলে মঙ্গলবারের ম্যাচগুলোকে ৪ জানুয়ারিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের ফলে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে খেলা শুরু করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিথু এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, দুই দিনের সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে এবং আজই একটি অতিরিক্ত বৈঠক হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম পর্যায় না রাখা অথবা চূড়ান্ত ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়া—এই দুইটি বিকল্পই বিবেচনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পর্যায় বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি সরঞ্জাম স্থানান্তরের সময় সাশ্রয়কে উল্লেখ করেন। শিলেট থেকে চট্টগ্রামে সম্প্রচার সরঞ্জাম স্থানান্তর করতে যে সময় লাগবে, তা পুরো সূচি ব্যাহত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশোধিত সূচিতে ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ ৪ জানুয়ারি রাত শিলেটে নির্ধারিত। একই দলগুলোকে পরের দিন বিকেলে চট্টগ্রামে খেলা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়।
শিলেট ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করলে এই সময়সীমায় দুইটি ম্যাচ একসাথে করা বাস্তবিকভাবে কঠিন। সরঞ্জাম ও দলীয় কর্মীদের দ্রুত স্থানান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে উদ্বেগ বাড়ছে।
একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে শিলেটের ম্যাচটি ৩ জানুয়ারিতে ধারাবাহিকভাবে রাখা হলে সময়ের ঘাটতি কমে যেত, তবে বিসিবি ৪ জানুয়ারির ম্যাচগুলো বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।
বিপিএল শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় দলকে ভারত ভ্রমণ করতে হবে, তাই সময়সূচি পুনর্গঠন না হলে আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে।
বিসিবি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; চট্টগ্রাম পর্যায় সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা অথবা চূড়ান্ত ম্যাচটি আরও পিছিয়ে দেওয়া—দুটি বিকল্পই টেবিলে রয়েছে।
যে কোনো সিদ্ধান্তই বিপিএলের সামগ্রিক প্রবাহ ও দর্শকদের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করবে, তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় ও লজিস্টিকের সীমাবদ্ধতা প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।



