নিউ ইয়র্কের সর্ববৃহৎ শহরের মেয়র পদে ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি ১ জানুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাতে শপথ গ্রহণ করে। শপথ অনুষ্ঠানটি শহরের পরিত্যক্ত একটি মেট্রো স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়, যা তার কর্মজীবী জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে অফিসের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। মামদানি নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়ে তুলছেন।
মামদানি ২০২৪ সালের মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির তরুণ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং উচ্চ জীবনযাত্রার খরচ, বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি, এবং পাবলিক পরিবহনের সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করেন। তার মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ভাড়া স্থগিত করা, সর্বজনীন শৈশব যত্ন ব্যবস্থা, এবং পাবলিক বাসের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চালু করা।
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার জন কেনে মন্তব্য করেন, “প্রতীকী অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে ভোটারদের জন্য ফলাফলই মূল বিষয় হয়ে ওঠে।” তিনি উল্লেখ করেন, শপথের পর মেয়রের নীতি বাস্তবায়নই নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও মামদানির মেয়রিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প, যিনি নিজেও নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা, পূর্বে মামদানিকে কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং তাকে “কমিউনিস্ট পাগল” বলে অভিহিত করেছেন। তবে নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে দুজনের মধ্যে একধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার রেকর্ড রয়েছে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিংকন মিচেল জানান, “মামদানির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ওই সাক্ষাৎকারটি প্রত্যাশার চেয়ে ভাল হয়েছে,” তবে তিনি সতর্ক করেন যে দুই নেতার সম্পর্ক দ্রুতই বদলে যেতে পারে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের একটি ক্ষেত্র হতে পারে অভিবাসন নীতি। ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী বিরোধী অভিযান বাড়ছে, আর মামদানি অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের ফেডারেল তহবিল কমিয়ে দেওয়ার হুমকি জানিয়েছিলেন, যদি শহর মামদানিকে মেয়র হিসেবে গ্রহণ করে। মামদানি এই হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে, ট্রাম্পকে “ফ্যাসিস্ট” বলে সমালোচনা করেছেন।
মামদানির গোপনীয় শপথ গ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস, যিনি পূর্বে ট্রাম্পের আর্থিক জালিয়াতি মামলায় সফলভাবে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পরিচিত। শপথের পর বৃহত্তর, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বামপন্থী সহকর্মী সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসের একজন সদস্যের ভাষণ শোনা যাবে।
মামদানির শাসনকাল চার বছর দীর্ঘ, এবং তার নীতি বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তার প্রথম পদক্ষেপ, অর্থাৎ কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং নিম্ন-আয়ের পরিবারকে লক্ষ্য করে নীতি গঠন, শহরের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচন করবে। ভবিষ্যতে ট্রাম্পের ফেডারেল নীতি, অভিবাসন সংক্রান্ত আইন, এবং শহরের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা মামদানির মেয়রিত্বের কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামদানির শপথ গ্রহণের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্য, বামপন্থী নীতি, এবং ফেডারেল-রাজ্য সম্পর্কের জটিলতা একসঙ্গে মিশে থাকবে।



