নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি সুপার শ্যাশে ওটাগো এবং সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যে চলা ১৯তম ওভারের মাঝামাঝি গ্লেন ফিলিপসের অপ্রত্যাশিত সুইচ হিট দর্শকদের দৃষ্টিগোচর করল। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ফিলিপস, যখন অফ-স্পিনার ডিন ফক্সক্রফটের বলের মুখোমুখি হলেন, তখন হঠাৎ করে বামহাতি হয়ে শট খেলতে প্রস্তুত হলেন। এই পরিবর্তনটি শুধু স্ট্যান্সের বদল নয়, শটের দিকনির্দেশনেও সম্পূর্ণ উল্টো ছিল।
সুইচ হিটের ধারণা ক্রিকেটে একসময় বিরল ছিল; প্রায় এক দশক আগে কেভিন পিটারসেনের শটই প্রথম আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ডেভিড ওয়ার্নার ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এই কৌশলকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আজকের দিনে সুইচ হিট বেশ সাধারণ হয়ে উঠলেও, ফিলিপসের এই শটটি তার সৃজনশীলতা ও নিখুঁত সময়ের জন্য বিশেষ নজর কেড়েছে।
১৯তম ওভারে ফক্সক্রফটের অফ-স্পিনার ডেলিভারি বামহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য অফ-স্টাম্পের বাইরে ছিল। ফিলিপস, যিনি তখনো ডানহাতি অবস্থায় ছিলেন, দ্রুত বামহাতি হয়ে দাঁড়ালেন এবং একদমই অপ্রত্যাশিতভাবে অতিরিক্ত কাভার দিকে একটি শক্তিশালী ড্রাইভ মারলেন। বলটি ডানহাতির জন্য ওয়াইড মিড উইকেটের মতো ছিল, তবে বামহাতি হিসেবে তা অতিরিক্ত কাভারের দিকে গিয়ে সীমান্তে পৌঁছায়। এই শটটি সরাসরি বাউন্ডারিতে শেষ হয়ে দর্শকদের উল্লাসে ভরিয়ে দিল।
মাঠের মন্তব্যকারী এই মুহূর্তে হাসি থামাতে পারলেন না এবং ফিলিপসের জন্য “তুমি একদমই অদ্ভুত” এমন মন্তব্য করে শটের অদ্ভুতত্বকে তুলে ধরলেন। তার কথায় ফিলিপসের স্বাভাবিক দক্ষতা ও সুইচ হিটের অনন্যতা উভয়ই প্রকাশ পেয়েছে।
ইনিংসের শেষ ওভারে বামহাতি স্পিনার জেডেন লেনক্সের ডেলিভারির মুখোমুখি হতে গিয়ে ফিলিপস আবারও বামহাতি হয়ে শট খেললেন। তিনি পূর্বেই বামহাতি স্ট্যান্স গ্রহণ করে ছিলেন, যা তাকে শটের জন্য সঠিক দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছিল। লেনক্সের শেষের ডেলিভারি বামহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য অফ-স্টাম্পের বাইরে, প্রায় ওয়াইডের মতো ছিল। ফিলিপস লেগ সাইডে না গিয়ে, স্লগ না করে, সরাসরি অতিরিক্ত কাভার এলাকায় বলটি মারলেন এবং তা সীমান্তের বাইরে উড়ে গেল।
ফিলিপসের বামহাতি অবস্থায় শটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষ দল দ্রুত ফিল্ডিং পরিবর্তন করল। অতিরিক্ত কাভার ফিল্ডারকে বৃত্তের ভিতরে এনে, মিড উইকেটকে সীমান্তে পাঠিয়ে, স্কোয়্যার লেগের ফিল্ডারকে আরও বাম দিকে সরিয়ে দিল। এই সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তনগুলো ফিল্ডিং সাইডের দায়িত্বকে পুনর্বিন্যস্ত করে ফিলিপসের শটের সম্ভাব্য দিকগুলোকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা ছিল।
ফিলিপসের এই দু’টি সুইচ হিটের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিকেটের ইতিহাসে ডেভিড ওয়ার্নার ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলসহ কয়েকজনই একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে ফিলিপসের ক্ষেত্রে, তিনি শটের সময় স্ট্যান্স পরিবর্তন করে, ফিল্ডিং সাইডের সমন্বয়কে চ্যালেঞ্জ করে এবং সীমান্তে শট শেষ করে একটি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
সুপার শ্যাশের এই ম্যাচে ফিলিপসের পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ রানের সুযোগ এনে দিল, যদিও ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে ওটাগো দলকে আবারও শক্তিশালী শটের প্রয়োজন হবে, এবং ফিলিপসের সুইচ হিটের মতো উদ্ভাবনী কৌশলগুলো সম্ভবত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সুইচ হিটের ব্যবহার এখন কেবল একধরনের চমক নয়, বরং ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফিলিপসের এই শটটি দেখিয়ে দিল যে, সঠিক মুহূর্তে স্ট্যান্স পরিবর্তন করে শটের দিকনির্দেশনা পরিবর্তন করা কতটা কার্যকর হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি ব্যাটসম্যান এই কৌশলকে গ্রহণ করতে পারেন, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গেমের গতিবিধি পরিবর্তন করতে সক্ষম।
সুপার শ্যাশের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ওটাগো ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের মুখোমুখি হওয়া দলগুলোকে ফিল্ডিং ও ব্যাটিং উভয় দিকেই দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। ফিলিপসের সুইচ হিটের মতো উদ্ভাবনী শটগুলো টিমের কৌশলগত বিকাশে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং দর্শকদের জন্য আরও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি করবে।



