মিনেসোটা রাজ্যের নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ফেডারেল সহায়তা প্রদানকারী শিশুকালীন যত্ন তহবিল ট্রাম্প সরকারের অধীনে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (HHS) বিভাগে হিমশীতল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি মঙ্গলবার ঘোষিত হয়, যখন বিভাগটি সোমালি-আমেরিকান মালিকানাধীন ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে সম্ভাব্য জালিয়াতি নিয়ে অভিযোগের জবাবে তহবিলের প্রবাহ বন্ধ করেছে।
অভিযোগের মূল সূত্র হিসেবে রক্ষণশীল ইউটিউবার নিক শির্লি উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি মিনিয়াপোলিসে সোমালি-আমেরিকানদের পরিচালিত ডে-কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জালিয়াতি হয়েছে বলে দাবি করেন। শির্লির ভিডিওটি এক্স (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ১.২৭ কোটি ভিউ পেয়েছে এবং ফক্স নিউজে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
HHS-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জিম ও’নিল এই পদক্ষেপকে “গুরুতর অভিযোগ” হিসেবে বর্ণনা করে, যেখানে তিনি বলেন যে গত দশকে রাজ্যটি করদাতার টাকা জালিয়াতিপূর্ণ ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে প্রবাহিত করেছে। ও’নিল উল্লেখ করেন, “আমরা অর্থের প্রবাহ বন্ধ করেছি এবং জালিয়াতি অনুসন্ধান করছি।” বর্তমানে ফেডারেল তহবিলের মোট পরিমাণ ১৮৫ মিলিয়ন ডলার, যা রাজ্যের নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর জন্য শিশুকালীন যত্নের ভাতা হিসেবে ব্যবহার হতো।
মিনেসোটা গভার্নর টিম ওয়ালজ এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে লিখে জানান, “এটি ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আমরা বছরের পর বছর জালিয়াতি মোকাবেলায় কাজ করছি, তবে এই পদক্ষেপটি তার পরিকল্পনার অংশই।” ওয়ালজ আরও যোগ করেন, “এটি এমন একটি বিষয়কে রাজনৈতিক করে তোলার চেষ্টা, যাতে মিনেসোটা বাসিন্দাদের সহায়তা করে এমন প্রোগ্রামগুলোকে বাজেট থেকে বাদ দেওয়া যায়।”
একই সময়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) সোমালি-আমেরিকানদের উপর ইমিগ্রেশন কেসের অডিট চালু করেছে। এই অডিটের মাধ্যমে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে নাগরিকত্ব বাতিল বা ন্যাচারালাইজেশন রিভোক করা হতে পারে। DHS-এর মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলফ্লিনের মতে, “যদি কোনো ব্যক্তি জালিয়াতি ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পায়, তা ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের কারণ।” তিনি ফক্স নিউজে জানান, এই অডিটে শত শত তদন্তকারী কর্মী জড়িত থাকবে।
এই দুইটি উদ্যোগের ফলে মিনেসোটা রাজ্যের সোমালি সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। তদুপরি, শিশুকালীন সহায়তা তহবিলের হিমশীতল হওয়ায় নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোকে বিকল্প যত্ন ব্যবস্থা খুঁজতে হবে, যা অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বাড়াতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, হিমশীতল তহবিলের পর্যালোচনা চলমান এবং প্রমাণিত জালিয়াতি হলে সংশ্লিষ্ট ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোকে শাস্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, অডিটের ফলাফল যদি কোনো নাগরিকের জালিয়াতি প্রমাণ করে, তবে তার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মিনেসোটা গভার্নর ওয়ালজ এবং স্থানীয় সমর্থকগণ এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করে, ভবিষ্যতে ফেডারেল তহবিলের প্রবাহ পুনরায় শুরু করার জন্য আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জালিয়াতি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইমিগ্রেশন ও সামাজিক সহায়তা নীতির ওপর নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষত, জালিয়াতি তদন্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে নাগরিক অধিকার সংস্থা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পরবর্তী ধাপে, HHS এবং DHS উভয়ই তাদের তদন্তের ফলাফল প্রকাশের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তহবিলের পুনর্বিন্যাস বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবে। মিনেসোটা সরকারও তহবিলের পুনরায় চালু হওয়া পর্যন্ত বিকল্প সহায়তা পরিকল্পনা তৈরি করার চেষ্টা করবে।



