খালেদা জিয়ার মৃত্যুপরবর্তী শূন্যস্থান পূরণে বিচারপতি সাত্তারকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে দলীয় সদস্যদের মধ্যে দুইটি প্রার্থী গোষ্ঠী গঠিত হয়; একদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে সমর্থনকারী গোষ্ঠী, অন্যদিকে বিচারপতি সাত্তারকে সমর্থনকারী গোষ্ঠী।
বেগম জিয়ার সমর্থকগণ তাকে প্রেসিডেন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিলেন, তবে একই সময়ে কিছু সদস্য বিচারপতি সাত্তারকে সমর্থন করে তার পক্ষে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, জেনারেল এরশাদ এই বিভাজনের পেছনে প্রভাব ফেলেছিলেন, কারণ তিনি বেগম জিয়া প্রেসিডেন্ট হলে তার শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণে নিজের প্রভাব হ্রাসের আশঙ্কা করতেন।
এই মতবিরোধের ফলে সংসদ সদস্য তানভির আহমদ সিদ্দিকী এবং অন্যান্য কয়েকজন বেগম জিয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তবে একই সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. এম. এ. মতিনের নেতৃত্বে একটি চাপ গোষ্ঠী গঠন করা হয়, যা বিচারপতি সাত্তারকে সমর্থন করে। ফলে বহু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যও সাত্তারকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকে যায়।
বেগম জিয়ার নাম দিয়ে মনোনয়ন দাখিল করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজও বিচারপতি সাত্তারকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনার শামসুদ্দোহা, যিনি ঢাকা সফরে ছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন নিয়ে চলমান মতবিরোধ সম্পর্কে জানিয়ে দেন এবং এরশাদের প্রভাবের ইঙ্গিত দেন।
এরশাদের এই পদক্ষেপের ফলে সামরিক আইন জারি হওয়ার পরপরই লেখক এবং তানভির আহমদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকালে লেখক বিচারপতি সাত্তারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে তার পক্ষে জনমত গঠনের কাজ চালিয়ে যান।
চূড়ান্ত নির্বাচনে বিচারপতি সাভার (সাত্তার) জয়লাভ করে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। তার জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, যেখানে জেনারেল এরশাদের প্রভাব ও সামরিক কাঠামোর ভূমিকা পুনরায় আলোচিত হবে।
প্রেসিডেন্টের নতুন দায়িত্বে সাভারকে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তার সমর্থকরা আশা প্রকাশ করছেন যে তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবেন। অন্যদিকে, বেগম জিয়ার সমর্থকরা ভবিষ্যতে তাদের প্রার্থীর পুনরায় উত্থান প্রত্যাশা করছেন এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছেন।
এই নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সংসদে নতুন গঠন ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেখানে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা ও ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেশের শাসন কাঠামোর পুনর্গঠন ও শক্তি সমন্বয়ের সূচক হতে পারে।



