20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিখালেদা জিয়া: আপসহীনতা দিয়ে গড়া রাজনৈতিক পথের বিশ্লেষণ

খালেদা জিয়া: আপসহীনতা দিয়ে গড়া রাজনৈতিক পথের বিশ্লেষণ

খালেদা জিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিএনপি) চেয়ারপার্সন এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তার রাজনৈতিক জীবনে ‘আপসহীন’ শব্দটি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে তা আজও আলোচনার বিষয়। ১৯৮৬ সালের স্বৈরশাসক এইচ এম এরশা সরকারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা অংশ নিলেও, জিয়া কোনো সমঝোতা না করে সংগ্রামের পথে অটল রইলেন। তার এই সিদ্ধান্তের প্রমাণ পরে ১৯৯০ সালে এরশা পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি দেশের শীর্ষে অধিষ্ঠিত হন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে সেনাবাহিনীর কিছু বিচ্যুত সদস্যের গুলিতে শহীদ হওয়ার পর, বিএনপি অস্থির অবস্থায় পড়ে। গৃহবধূ খালেদা জিয়া জানুয়ারি ১৯৮২-এ সাধারণ সদস্য হিসেবে পার্টিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই নেতৃত্বের শীর্ষে ওঠেন; ১৯৮৩ সালের মার্চে ভাইস চেয়ারপার্সন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন।

এরশা শাসনের অধীনে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার তার দৃঢ় সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের ভার বহন করার ইচ্ছা ছিল। তিনি সাতদলীয় জোট গঠন করে দেশের পথে আন্দোলন ত্বরান্বিত করেন, যদিও একই সময়ে তার পার্টি থেকে একের পর এক নেতা পদত্যাগ করেন। জিয়া বহুবার গ্রেপ্তার হন; সর্বোচ্চ ৮৫ দিন গৃহবন্দী রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে পুলিশি হামলা এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ নানা ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়।

শেখ হাসিনা, যিনি একই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন, তাকে একই সরকার গৃহবন্দী করে। তবে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়, যদিও বিএনপি এটিকে ‘নীলনকশার’ নির্বাচন বলে সমালোচনা করে। এই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ মনোভাব তাকে পার্টির ভিতরে এবং বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে আলাদা করে তুলেছিল।

বিএনপি-র অভ্যন্তরে এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদানকে তুলে ধরতে মহিউদ্দিন আহমেদ রচিত ‘খালেদা’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিয়া একাধিকবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী হওয়া সত্ত্বেও কখনো আপস করেননি। তার এই নীতি রাজনৈতিক মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে।

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, জিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক যোগ করেন। তবে তার রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণ এবং নিপীড়নের পর্ব অব্যাহত থাকে; বিভিন্ন সময়ে তিনি আবারও গৃহবন্দী হন। এই ধারাবাহিকতা তার ‘আপসহীন’ চরিত্রকে আরও দৃঢ় করে।

এরশা পতনের পর দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রায় দেড় দশক ধরে চলতে থাকে। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত সরকার গঠনের মাধ্যমে আবার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে, তবে খালেদা জিয়ার নীতি ও কৌশল এখনও পার্টি ও দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। তার ‘আপসহীন’ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল, জোট গঠন এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার আপসহীনতা তার পার্টির সংগঠনের দৃঢ়তা এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। তবে একই সঙ্গে এটি পার্টির মধ্যে মতবিরোধের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে, কারণ কঠোর অবস্থান কখনো কখনো সমঝোতার দরজা বন্ধ করে দেয়। ভবিষ্যতে যদি জিয়া বা তার উত্তরসূরি আরও নমনীয় কৌশল গ্রহণ করেন, তবে তা পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রের দিকে বাংলাদেশের রূপান্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তার ‘আপসহীন’ মানসিকতা, বহুবারের গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী হওয়া সত্ত্বেও অটল থাকা, এবং পার্টির শীর্ষে পৌঁছানোর পথ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ স্থান দখল করে। ভবিষ্যতে তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, জোট গঠন এবং নির্বাচনী কৌশল কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments