চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ত্রুটির ফলে মঙ্গলবার রাত থেকে ইউরোস্টার ট্রেনগুলোতে বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নতুন বছরের আগের শেষ রাতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে চাওয়া হাজারো যাত্রীকে ট্রেনে আটকে থাকতে হয়।
টানেল প্রবেশের ঠিক আগে ১৯:০১ টায় প্যারিসের দিকে রওনা হওয়া একটি ট্রেনের যাত্রীরা রাতের ৩:০০ GMT পর্যন্ত গাড়ি না চলার কারণে ট্রেনে আটকে রইল। স্টাফদের তথ্য অনুযায়ী, গন্তব্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ এবং লন্ডনে ফিরে আসার সম্ভাবনা সমান ছিল।
ইউরোস্টার কর্তৃপক্ষ বুধবারের জন্য সব সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছে, তবে এখনও কিছু দেরি ও রদবদলের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। লন্ডন‑প্যারিসের ০৬:০০ GMT সময়সূচীযুক্ত ট্রেনটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।
বিকল ঘটনার মূল কারণ ছিল টানেলের উপরের বিদ্যুৎ সরবরাহের ত্রুটি এবং লে-শাটল ট্রেনের যান্ত্রিক সমস্যার সমন্বয়, যা মঙ্গলবারের পুরো রুটকে বন্ধ করে দেয়। ফলে নতুন বছরের আগের শেষ রাতের ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেঙে যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিছু ইউরোস্টার ও লে-শাটল সেবা পুনরায় চালু হলেও টানেলের দুইটি রেললাইন থেকে মাত্র একটি লাইনই কাজ করছিল। বাকি লাইনটি এখনও মেরামতের অপেক্ষায় ছিল।
চ্যানেল টানেল পরিচালনাকারী গেটলিঙ্ক জানান, রাত জুড়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ চালিয়ে গিয়েছে এবং টানেলের অবকাঠামো পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে ইউরোস্টার ওয়েবসাইটে আপডেট প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “গতকালের বিদ্যুৎ সমস্যার পর সেবা পুনরায় শুরু হয়েছে, তবে অবকাঠামোগত সমস্যার ফলে এখনও দেরি ও শেষ মুহূর্তে রদবদল হতে পারে।” গ্রাহকদের লাইভ আপডেট চেক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের ডেনিস ভ্যান ডার স্টিনের মতো যাত্রীরা ছয় ঘণ্টা বেশি সময় ট্রেনে আটকে ছিলেন, এরপর ট্রেনটি আবার চলা শুরু করে। তার মতোই বহু ভ্রমণকারী এই অপ্রত্যাশিত বিলম্বের ফলে নতুন বছরের উদযাপন পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনার ফলে ইউরোস্টার ও গেটলিঙ্কের স্বল্পমেয়াদী আয় হ্রাস পাবে। বাতিল ও দেরি হওয়া ট্রেনের টিকিট রিফান্ড বা পুনঃবুকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় বাড়াবে। তাছাড়া, বড়দিন ও নববর্ষের শীর্ষ পর্যটন মৌসুমে সেবা ব্যাহত হওয়া গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা কমাতে পারে।
চ্যানেল টানেল রেল ও লে-শাটল সেবার ওপর নির্ভরশীল ইউরোপীয় পর্যটন ও লজিস্টিক শিল্পের জন্যও এই ধরণের অব্যাহত সমস্যার অর্থনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। টানেলের মাধ্যমে গমনাগমনকারী পণ্য ও যাত্রীদের প্রবাহে বাধা পড়লে বাণিজ্যিক চাহিদা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা বিশেষ করে শীতকালীন শিপিং ও ই-কমার্স ডেলিভারির সময়ে ক্ষতি বাড়ায়।
অবকাঠামোগত দুর্বলতা প্রকাশের ফলে ইউরোস্টার ও গেটলিঙ্কের পরিচালন ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে অনুরূপ বিদ্যুৎ সমস্যার প্রতিরোধে অতিরিক্ত ব্যাকআপ সিস্টেম, রেডান্ড্যান্ট পাওয়ার লাইন এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং প্রযুক্তি গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া, জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের দ্রুত পুনর্নির্দেশ ও তথ্য প্রদান করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নও জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদে টানেল ব্যবস্থাপনা সংস্থা গেটলিঙ্ক এবং ইউরোস্টার উভয়ই সেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স এবং স্টাফ প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কমানো যাবে। তদুপরি, ভ্রমণকারীদের জন্য বিকল্প রুট ও রিজার্ভেশন বিকল্পের ব্যবস্থা করে গ্রাহক সেবা উন্নত করা সম্ভব।
সারসংক্ষেপে, চ্যানেল টানেলের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ইউরোস্টার সেবায় বড় ধরণের বিলম্ব ও বাতিলের কারণ হয়েছে, যা পর্যটন ও লজিস্টিক খাতে আর্থিক ক্ষতি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ডিজিটাল যোগাযোগের উন্নয়ন ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার প্রভাব কমাতে মূল কৌশল হিসেবে বিবেচিত হবে।



