ইসাইয়া হুইটলক জুনিয়র, হবোর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য ওয়্যার’‑এ সেন্টার সেনেটর ক্লে ডেভিসের চরিত্রে পরিচিত অভিনেতা, ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর তার ম্যানেজার ব্রায়ান লিবম্যান ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি হুইটলকের ব্যক্তিত্ব ও কর্মজীবনের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ইসাইয়া ১৯৫৪ সালে ইন্ডিয়ানার এক ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে থিয়েটার অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৭৬ সালে স্নাতক হন। স্নাতকের পর সান ফ্রান্সিসকোর আমেরিকান কনসারভেটরি থিয়েটারে প্রশিক্ষণ নেন, যেখানে তিনি অভিনয়ের ভিত্তি মজবুত করেন। তার প্রথম টেলিভিশন ক্রেডিট আসে ১৯৮১ সালের টিভি মুভি ‘এ ক্রিসমাস ক্যারোল’ থেকে।
১৯৯০ সালে মারিয়ো পুজোর ‘গুডফেলাস’ ছবিতে ডাক্তারের ভূমিকায় হুইটলক স্ক্রিনে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন। এরপর তিনি স্পাইক লি’র সঙ্গে কাজের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ‘২৫থ আওয়ার’, ‘শি হেট মি’, ‘রেড হুক সামার’, ‘চি-রাক’, ‘ব্ল্যাকক্ল্যান্সম্যান’ ও ‘দা ৫ ব্লাডস’ সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তার স্বতন্ত্র হাস্যরস ও তীক্ষ্ণ ডায়ালগ ডেলিভারি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
২০০২ সালে তিনি ‘দ্য ওয়্যার’‑এ ক্লে ডেভিসের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে দেয়। সিরিজের শেষ পর্যন্ত, ২০০৮ পর্যন্ত তিনি এই কেলেঙ্কারিপূর্ণ রাজনীতিবিদের ভূমিকায় অবিচল ছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুইটলক নেটফ্লিক্সের এমি-নামিনেটেড সিরিজ ‘দ্য রেসিডেন্স’‑এ উপস্থিত ছিলেন, যেখানে উজো আদুবার সঙ্গে কাজ করেছেন। শোটাইমের ‘ইয়োর অনার’ সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় সিজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া ‘ভিপ’ সিরিজে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সেক্রেটারি জর্জ ম্যাডক্সের ভূমিকায় দর্শকদের হাসি ও তীব্রতা প্রদান করেন।
তার চলচ্চিত্র তালিকায় ‘এনচ্যান্টেড’ (২০০৭), ‘সিডার র্যাপিডস’ (২০১১), ক্রিস ইভান্সের ‘লাইটইয়ার’ এবং এলিজাবেথ ব্যাংকসের ‘কোকেইন বেয়ার’ অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে তিনি ২০২৬ সালে পিক্সার-ডিজনি যৌথ প্রকল্প ‘হপার্স’‑এ কণ্ঠদান করবেন বলে জানা যায়।
ইসাইয়া হুইটলকের মৃত্যুর পর স্পাইক লি ইনস্টাগ্রামে শোক প্রকাশ করে, “আজ আমার প্রিয় ভাই ইসাইয়া হুইটলকের মৃত্যু সম্পর্কে জানলাম। ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক।” এমন সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে তিনি শিল্পীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। ম্যানেজার লিবম্যানের পোস্টে হুইটলকের মানবিক গুণাবলি ও শিল্পের প্রতি অবদানের প্রশংসা করা হয়েছে, এবং তার অনুপস্থিতি গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুইটলকের ক্যারিয়ার বহু দিক থেকে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। তিনি শুধু টেলিভিশন ও সিনেমায় নয়, থিয়েটার ও ভয়েস ওয়ার্কে ও দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। তার স্বতন্ত্র উচ্চারণ, তীক্ষ্ণ হাস্যরস এবং দৃঢ় চরিত্রায়ণ তাকে সমসাময়িক অভিনেতা হিসেবে আলাদা করে তুলেছে। তার কাজের মাধ্যমে তিনি বহু তরুণ শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন।
ইসাইয়া হুইটলকের মৃত্যু শিল্প জগতে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার অবদান ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরস্থায়ী থাকবে। তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে তিনি যে চলচ্চিত্র ও সিরিজে কাজ করেছেন সেগুলো পুনরায় দেখুন, যাতে তার শিল্পীসত্তা আরও বেশি মানুষ উপভোগ করতে পারে।
এই মুহূর্তে, হুইটলকের পরিবারকে শান্তি ও ধৈর্য কামনা করা উচিত, এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে তার কাজের মাধ্যমে শিল্পের সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো জরুরি।



