সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার হারবার শহরে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাত ১১টায় (১২০০ GMT) নতুন বছরের আগমন চিহ্নিত করতে বিশাল জনসমাগমের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সিডনি হারবার ব্রিজ সাদা আলোতে আলোকিত হবে এবং রাতের অর্ধেকের পরে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে।
ব্রিজের নিচে নাইন টন পরিমাণ আতশবাজি বিস্ফোরিত হবে, যা মধ্যরাতের সাথে সাথে আকাশকে রঙিন করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণের চেয়ে কঠোর, সশস্ত্র পুলিশ দলগুলো ভিড়ের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করবে। সিডনি বাসিন্দা স্টেফ গ্রান্ট, ৩২ বছর বয়সী বিজ্ঞাপন কর্মী, “বছরটি অনেকের জন্য কঠিন ছিল, ২০২৬ সালে পৃথিবী আরও উজ্জ্বল হবে” বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
এই উদযাপনের আগে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসবে পিতা-পুত্রের গুলিবর্ষণ ঘটেছিল, যেখানে ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং এটি প্রায় ৩০ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে মারাত্মক গুলিবর্ষণ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
সিডনি থেকে উদযাপন শিকড় বিস্তৃত হয়ে নিউ ইয়র্কের ঝলমলে পার্টি, স্কটল্যান্ডের হগম্যানাই উৎসব এবং ব্রাজিলের কপাকাবানা সমুদ্রতটে দুই মিলিয়ন দর্শকের প্রত্যাশিত বিশাল পার্টিতে পৌঁছেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ইভেন্টকে বিশ্বের বৃহত্তম নববর্ষের পার্টি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বৈশ্বিকভাবে ২০২৫ বছরটি রেকর্ডে উষ্ণতম বছরের মধ্যে একটি ছিল। ইউরোপে তীব্র তাপমাত্রা বনায়নকে প্রজ্বলিত করে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করেছে, আফ্রিকায় দীর্ঘস্থায়ী খরা ফসলের ক্ষতি বাড়িয়ে দিয়েছে, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের ফলে প্রাণঘাতী বন্যা ঘটেছে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলোকে আরও কঠোর পরিবেশ নীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে।
সংস্কৃতি ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে লাবু ডল গ্লোবাল ফ্যাশন আইকন হয়ে ওঠে, লুভরের এক চোরাচালানী ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা বাড়িয়ে দেয়, এবং কেপপ গ্রুপ বিটিএস দীর্ঘদিনের বিরতির পর পুনরায় মঞ্চে ফিরে আসে, যা ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত তৈরি করে।
বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। প্রাণীবিদ্যা ক্ষেত্রে অগ্রণী জেন গুডল, ৮৭ বছর বয়সে দেহান্তক হন, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনে গভীর শোকের কারণ হয়। রোমান ক্যাথলিক চার্চ নতুন পোপের নির্বাচন সম্পন্ন করে, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী কর্মী চার্লি কির্কের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে তীব্র করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করে, এবং তার নেতৃত্বে ট্যারিফ নীতি পুনরায় চালু হয়, যা বৈশ্বিক বাজারে বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় নতুন রূপ দেয় এবং বহু দেশকে তাদের বাণিজ্যিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
বছর জুড়ে গাজা অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বজায় থাকে, যদিও ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়ায় এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনীতিকরা এই দুই সংঘাতের সমাধানে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরবর্তী বছরের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সিডনির উদযাপন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট, সাংস্কৃতিক প্রবণতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন একসাথে ২০২৫ সালের সমাপনী চিত্র গঠন করেছে। এই ঘটনাগুলো পরবর্তী বছরকে কীভাবে গঠন করবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।



