পেরুর ঐতিহাসিক শহর অল্লানতায়াম্বো ও মাচু পিচুকে সংযোগকারী একক রেলপথে দুপুরের খাবারের সময় দুইটি ট্রেন ধাক্কা খায়। এই সংঘর্ষে একটি ট্রেনের কন্ডাক্টর প্রাণ হারিয়ে গেছেন, আর প্রায় দুই দশজনের বেশি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
ঘটনাস্থলটি পেরুর কুসকো প্রদেশের দূরবর্তী অ্যান্ডিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে সরাসরি সড়ক সংযোগ নেই। পেরুর রেল সংস্থা ফের্রোকারিল ট্রান্সআন্ডিনো জানায়, পেরু রেল পরিচালিত একটি ট্রেন এবং ইনকা রেল কোম্পানির আরেকটি লোডোমোটিভ একই সময়ে ট্র্যাকের একই অংশে প্রবেশ করে ধাক্কা খায়।
কুসকো প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের মতে, নিহত ব্যক্তি দুই ট্রেনের একটির কন্ডাক্টর ছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ জন রোগীকে তুলনামূলকভাবে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিগুলোতে দুটো ধ্বংসপ্রাপ্ত লোডোমোটিভ একে অপরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে এবং ট্র্যাকের পাশে আহতদের চিকিৎসা করা হচ্ছে দেখা যায়।
অ্যান্ডিয়ান পাহাড়ের এই অপ্রবেশযোগ্য অঞ্চলে এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা কর্মী দ্রুত পৌঁছায়। স্থানীয় জরুরি সেবা দলগুলোকে কঠিন ভূখণ্ডে গিয়ে আহতদের ত্রাণ করতে হয়, যা রেসকিউ কাজকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
মাচু পিচু ১৯৮৩ সাল থেকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪,৫০০ পর্যটককে স্বাগত জানায়, যার বেশিরভাগই বিদেশি। এই প্রাচীন ইনকা শহর তার নিখুঁতভাবে সাজানো পাথরের গঠন ও ১৫শ শতাব্দীর নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
বহু পর্যটক এই ঐতিহাসিক স্থানটি পৌঁছানোর জন্য রেল ও বাসের সমন্বয় ব্যবহার করেন; রেলপথের মাধ্যমে পৌঁছানোই অধিকাংশের জন্য প্রধান বিকল্প। রেল দুর্ঘটনা ঘটার ফলে পর্যটন সেবার ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো পরিষ্কার হয়নি, তবে রেল সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ট্র্যাকের একক লাইন ব্যবস্থাপনা, সিগন্যাল ত্রুটি বা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পেরুর পর্যটন শিল্পে এই ধরনের রেল দুর্ঘটনা পূর্বে ঘটেছে, যেমন ২০২২ সালে সান্তা মারিয়া রেল দুর্ঘটনা যেখানে বহু প্রাণ হারিয়ে গিয়েছিল। উভয় ঘটনার পর পেরু সরকার পর্যটন নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে এবং রেল অবকাঠামো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “মাচু পিচু অঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ক পর্যটন অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন সরাসরি দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র ও পর্যটন আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।” এই ধরনের বিশ্লেষণ পেরু সরকারের রেল নিরাপত্তা সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ভ্রমণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করার কথা জানিয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে মাচু পিচু পৌঁছাতে পারেন। এছাড়া, ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে নির্দেশিকা তৈরি করতে সহযোগিতা করবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলোতে রেল দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ, রেল সিগন্যাল ও ট্র্যাকের আধুনিকায়ন, এবং পর্যটন সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পেরু সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



