২০২৪ সালের পুরো সময়কালে স্বাস্থ্যখাতে ধারাবাহিক ব্যাঘাত দেখা গেছে। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ঘাটতির ফলে হাজারো রোগী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই সমস্যার মূল কারণ ছিল বহু দশক ধরে চালু থাকা একটি কার্যকরী চুক্তির হঠাৎ বাতিল।
বছরের শুরুতে, জানুয়ারি মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID) এর তহবিল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তহবিলের এই বন্ধ স্বাস্থ্যখাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছে। তৎক্ষণাৎ, আইসিডিডিআর,বির টিউবারকুলোসিস মোকাবিলার জন্য গঠিত অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম স্থগিত হয়, যা টিবি রোগের সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া উন্নত করার লক্ষ্যে ছিল।
বছরের শেষের দিকে, সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন দাবী নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বেতন, কর্মপরিবেশ এবং সরঞ্জাম সরবরাহের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। এই চাপের প্রেক্ষিতে সরকার ৬,০০০ের বেশি ডাক্তারকে পদোন্নতি দেয়, তবে অধিকাংশকে অতিরিক্ত (সুপারনুমেরি) পদে নিযুক্ত করা হয়েছে, যা কর্মসংস্থানের বাস্তবিক উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সেই সময়ে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার অব্যাহত থাকে, ফলে জনস্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা প্রায় সীমা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। জুলাই মাসে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের হার ৫৯.২ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০৭ সাল থেকে রোগের নজরদারির সূচনা থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
গত মাসে প্রকাশিত মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী, মোট ফার্টিলিটি রেট (TFR) ২.৪ এ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্ববর্তী জরিপে ২.৩ ছিল। এই বৃদ্ধি পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে, যা জনসংখ্যা নীতি ও পরিবার পরিকল্পনা প্রোগ্রামের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।
স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন নিয়ে বহুবার আলোচনা হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবিক অগ্রগতি সীমিত রয়ে গেছে। উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিশন ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাব করে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নে স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডি.জি.এইচ.এস.-এর প্রাক্তন রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক বেনাজির আহমেদ উল্লেখ করেন, যদিও কিছু প্রোগ্রামের কার্যকারিতা সীমিত, তবু অতীত দশকগুলোতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, হঠাৎ প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়ায় দেশের অর্জিত সাফল্য, যেমন কালা-আজার রোগের নির্মূল, বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, অস্থায়ী স্বাস্থ্য প্রশাসন যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তবে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে একটি মডেল তৈরি করা সম্ভব হতো। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কী ধরনের নীতি ও বাস্তবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, এবং তা কীভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়?



