সাতোইশের প্রথম গে কাস্ট সদস্য টেরি সুইনি, ১৯৮৫-৮৬ সালের ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ মৌসুমে শোতে যোগ দেন। এখন ৭৫ বছর বয়সী সুইনি, শেভি চেজের সঙ্গে বহু বছর ধরে চলা তর্কের ওপর নতুন ডকুমেন্টারিতে প্রকাশিত মন্তব্যের পর আবার কথা বলছেন।
শেভি চেজের জীবনীমূলক ডকুমেন্টারি “I’m Chevy Chase…And You’re Not” ১ জানুয়ারি প্রিমিয়ার হবে। এতে চেজের কথায় টেরি সুইনি ‘মৃত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চেজের এই মন্তব্যের পর সুইনি তৎক্ষণাৎ ইনস্ট্যান্ট মেসেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চেজকে ‘নিজেরই গাধা’ বলে সমালোচনা করেন।
সুইনি ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গে হিসেবে প্রকাশ্যভাবে পরিচিত হওয়ায় টিভি জগতে একাকিত্বের মুখোমুখি ছিলেন। সেই সময়ে চেজ তাকে ‘এডস আছে কি না’ এমন রসিকতা দিয়ে একটি স্কেচে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এ রকম রসিকতা গে সম্প্রদায়ের ওপর চলমান এডস মহামারির প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে আঘাতজনক ছিল।
ডকুমেন্টারিতে শোয়ের স্রষ্টা লর্ন মাইকেলসের মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি চেজের আচরণকে ‘চেজের স্বভাব’ বলে ব্যাখ্যা করেন এবং উল্লেখ করেন যে শোয়ের পরিবেশে ‘বেদনাদায়ক রসিকতা’ কখনো কখনো হাস্যরসের অংশ হিসেবে গৃহীত হতো। তবে একই সময়ে এডসের দ্রুত বিস্তার গে সম্প্রদায়কে ভয়াবহভাবে প্রভাবিত করছিল, যা সুইনির জন্য বিশেষভাবে কষ্টদায়ক ছিল।
ডকুমেন্টারিতে চেজের অতীত সহকর্মী ইভেট নিকোল ব্রাউনও উল্লেখ করেন। তিনি চেজের শো থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে চলমান তদন্ত এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত কোনো পুনঃপর্যালোচনাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ডকুমেন্টারির নির্মাতা জেনোভিচ চেজকে স্মরণ করিয়ে দিতে টম শেলস ও জেমস অ্যান্ড্রু মিলারের ‘Live From New York: The Complete, Uncensored History of Saturday Night Live’ বই থেকে একটি অংশ পাঠ করেন। এতে সুইনি বর্ণনা করেন যে চেজ তার ড্রেসিং রুমে প্রবেশ করে পরে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এই বিবরণটি ডকুমেন্টারিতে পুনরায় উপস্থাপিত হয়েছে।
সুইনি, যিনি এখনও সক্রিয় এবং সুস্থ, ডকুমেন্টারির প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে চেজের মন্তব্যকে ‘নিজেরই গাধা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি চেজের এই ধরনের বক্তব্যকে নিজেরই বোকামি বাড়িয়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেন।
সুইনি এবং চেজের মধ্যে এই পুরনো বিরোধ, ১৯৮০-এর দশকের গে সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া সামাজিক বৈষম্য ও এডসের ভয়াবহ প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত, এখন নতুন প্রজন্মের সামনে পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ডকুমেন্টারিটি শোয়ের ইতিহাস, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে একত্রে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের জন্য অতীতের অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে পুনরায় ভাবার সুযোগ দেয়।
ডকুমেন্টারির প্রিমিয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেরি সুইনি এবং শেভি চেজের মধ্যে এই বিতর্ক পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। যদিও চেজের মন্তব্যে সুইনি ‘মৃত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে সুইনি জীবিত এবং তার মতামত প্রকাশে সক্রিয়। এই ঘটনা শোয়ের ইতিহাসে গে শিল্পীদের সম্মুখীন চ্যালেঞ্জ এবং শোয়ের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির জটিলতা উন্মোচিত করে।
ডকুমেন্টারির মাধ্যমে শোয়ের পুরনো রেকর্ড, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট একত্রে উপস্থাপিত হওয়ায়, গে সম্প্রদায়ের ইতিহাস এবং এডসের সময়ের সামাজিক বর্ণনা পুনরায় বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে শোয়ের সংস্কৃতি এবং শিল্পীদের অধিকার সংরক্ষণে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



