আন্তর্জাতিক ডেটা কর্পোরেশন (IDC) সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্লেষণে জানিয়েছে যে, মেমোরি মূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতি ২০২৬ সালে গ্লোবাল পিসি শিপমেন্টে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটাতে পারে। সর্বোচ্চ সম্ভাব্য হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ৮.৯ শতাংশ হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। এই পূর্বাভাসের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য উচ্চ‑ব্যান্ডউইথ (HBM) ও উচ্চ‑ক্ষমতা সম্পন্ন DDR5 মেমোরির চাহিদা উল্লেখ করা হয়েছে।
মেমোরি নির্মাতারা ঐতিহ্যবাহী স্মার্টফোন, পিসি ও অন্যান্য ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের জন্য ব্যবহৃত DRAM ও NAND উৎপাদন থেকে সরে গিয়ে AI ডেটা সেন্টারের জন্য বিশেষায়িত মডেলগুলোর দিকে মনোযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে, পিসি নির্মাতাদের জন্য উপলব্ধ সাধারণ DRAM ও NAND এর সরবরাহ কমে যায় এবং বাজারে দাম দ্রুত বাড়ে। এই পরিস্থিতি সরাসরি পিসি বিক্রেতাদের খরচ কাঠামোকে প্রভাবিত করছে।
দাম বৃদ্ধির প্রভাব পিসি নির্মাতাদের বিক্রয়মূল্যেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, মডুলার পিসি প্রস্তুতকারী Framework সম্প্রতি তার ল্যাপটপ ও পার্টসের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে আরও মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। IDC এর সর্বনিম্ন‑আশাবাদী মডেলে ২০২৬ সালে মেমোরি দামের বৃদ্ধি ৬ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে হতে পারে, যা পিসি গড় বিক্রয়মূল্যেও সমানুপাতিকভাবে প্রভাব ফেলবে।
AI‑সক্ষম পিসি, যেগুলোতে স্থানীয়ভাবে নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (NPU) যুক্ত থাকে এবং জটিল মডেল চালাতে বড় মেমোরি প্রয়োজন, এই মেমোরি সংকটের ফলে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বে AI পিসি বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার আশা করা হতো, তবে এখন তাদের উচ্চ মেমোরি চাহিদা সরাসরি দামের উত্থান ও সরবরাহের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে, এই সেগমেন্টের বিক্রয়ও সামগ্রিক পিসি বাজারের পতনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
স্মার্টফোন ক্ষেত্রেও মেমোরি দামের প্রভাব অনস্বীকার্য। IDC এর পূর্বাভাসে গড় বিক্রয়মূল্য ৬ থেকে ৮ শতাংশ বাড়তে পারে, আর সর্বনিম্ন‑আশাবাদী দৃশ্যে শিপমেন্টে ৫.২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। স্মার্টফোনের জন্য DDR5 ও NAND মেমোরির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের চাপ বাড়ছে, যা শেষ ব্যবহারকারীর কাছে উচ্চ দামের মাধ্যমে পৌঁছাবে।
বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো, যেমন Apple ও Samsung, উল্লেখযোগ্য নগদ প্রবাহ এবং দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তির সুবিধা নিয়ে এই মেমোরি দামের উত্থানকে সাময়িকভাবে শোষণ করতে সক্ষম। তাদের জন্য এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত দাম বাড়লেও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে, ছোট ও মাঝারি আকারের পিসি ও স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য এই সময়ে খরচের চাপ বাড়বে এবং লাভের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে।
IDC এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেমোরি বাজারের এই রূপান্তর পুরো ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ফেলবে। উচ্চ‑ব্যান্ডউইথ মেমোরির দিকে উৎপাদন স্থানান্তর দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা পণ্যগুলোর দামকে প্রভাবিত করতে পারে, যা শেষ ব্যবহারকারীর ক্রয়ক্ষমতাকে সীমিত করবে। ফলে, পিসি ও স্মার্টফোনের বিক্রয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মেমোরি দামের উত্থান এবং AI ডেটা সেন্টারের জন্য উৎপাদন পুনর্নির্দেশনা ২০২৬ সালে পিসি শিপমেন্টে প্রায় ৯ শতাংশ হ্রাস এবং স্মার্টফোন শিপমেন্টে ৫ শতাংশের কাছাকাছি পতনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্পের বড় খেলোয়াড়দের আর্থিক শক্তি ও সরবরাহ চুক্তি সুবিধা হবে, তবে ছোট নির্মাতাদের জন্য খরচের চাপ বাড়বে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠবে।
এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে মেমোরি সরবরাহের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং AI‑চালিত পণ্যগুলোর মূল্য কাঠামো স্থিতিশীল করার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।



