তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে টঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে নির্ধারিত বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই সময়ে কোনো ধর্মীয় সমাবেশ বা বৃহৎ অনুষ্ঠান না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান ৩০ ডিসেম্বর রাতের দিকে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, নির্বাচনের আগে জনসমাগমের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
প্রেরিত চিঠিতে গাজীপুরের আইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অফিসারকে সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের সময়কালে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক সমাবেশ অনুমোদিত হবে না।
মাদ্রাসা উলুমি দীনিয়া মালওয়ালী মসজিদের খতিব ও প্রিন্সিপাল এবং তাবলিগ জামাতের আহলে সুরার সদস্য মোহাম্মদ জুবায়ের টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা মাঠে ২ থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত “খুরুজের জোড়” এবং ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা-২০২৬ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই সময়ে কোনো সমাবেশ না করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের পূর্বে উক্ত মাঠে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সমাবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে না।
মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হল নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস করা এবং ভোটারদের স্বাভাবিক ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না আসা নিশ্চিত করা। বৃহৎ সমাবেশের ফলে সৃষ্ট ট্রাফিক জ্যাম, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য অশান্তি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনকালে সরকারের নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করার একটি অংশ। নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলাকালে ধর্মীয় সমাবেশের সীমাবদ্ধতা রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে।
অধিকন্তু, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সমাবেশের বাতিলের ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও সেবা খাতেও সাময়িক ক্ষতি হতে পারে, তবে মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রাধিকার সর্বোচ্চ।
পরবর্তী ধাপে, গাজীপুরের আইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্টের সমন্বয়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। এছাড়া, ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে নির্বাচনের সময়কালে সমাবেশ না করার জন্য সচেতন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে টঙ্গির তুরাগ তীরে নির্ধারিত বিশ্ব ইজতেমা ও “খুরুজের জোড়” উভয়ই স্থগিত থাকবে, এবং মন্ত্রণালয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



