হলিউডের পরিচিত অভিনেতা জর্জ ক্লুনি, মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনি এবং তাদের দু’জন সন্তানকে ফরাসি সরকার নাগরিকত্ব প্রদান করেছে। এই সিদ্ধান্তটি ফরাসি সরকারি গেজেট জার্নাল অফিশিয়েলে প্রকাশিত হয়েছে। পরিবারটি দক্ষিণ ফ্রান্সের ব্রিগনোলেসে একটি ফার্মে বসবাস করে, যা তাদের প্রধান বাসস্থান।
ক্লুনি দম্পতি ২০২১ সালে ব্রিগনোলেসের এই ফার্মটি ক্রয় করেন এবং তখন থেকে তা তাদের দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফার্মের বিস্তীর্ণ জমি ও শান্ত পরিবেশ তাদের সন্তানদের বড় করার জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
লস এঞ্জেলেসের হলিউডের ঝলক থেকে দূরে সন্তানদের লালন-পালন করার ইচ্ছা ক্লুনিকে এই পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি চান না তাদের সন্তানরা পাপারাজ্জি ও সেলিব্রিটি তুলনার চাপে বড় হোক। তাই ফ্রান্সের গ্রামীণ পরিবেশে তাদের শৈশব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জার্নাল অফিশিয়েলে প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। এতে আমাল ক্লুনির নাম তার মূল উপাধি, আমাল আলামুদ্দিন, দিয়ে ন্যাচারালাইজড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্লুনি পরিবারটি ফার্মে সাধারণ জীবনযাপন করে, যেখানে শিশুরা আইপ্যাডের বদলে পরিবারিক খাবারের সময়ে বড়দের সঙ্গে বসে খাবার খায় এবং নিজেরা থালা-বাসন পরিষ্কার করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই রুটিন তাদের সন্তানদের জন্য আরও স্বাস্থ্যকর ও সুষম জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে।
ব্রিগনোলেসের মেয়র দিদিয়ে ব্রেমন্ড পরিবারকে “খুবই সরল ও সহজলভ্য” বলে প্রশংসা করেছেন এবং ফরাসি নাগরিকত্ব গ্রহণকে তাদের দেশের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মেয়র আরও জানিয়েছেন, ক্লুনি পরিবার এখানে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে চায় এবং তা তাদের লক্ষ্য।
ফ্রান্সের পাশাপাশি ক্লুনি যুক্তরাজ্য ও কেন্টাকিতে আরেকটি বাড়ি রয়েছে, যা তার জন্মস্থান এবং কাজের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এই সম্পত্তিগুলি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছেন।
দম্পতির যমজ সন্তান এল্লা ও আলেকজান্ডার ২০১৭ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করে। তাদের মা, আমাল, লেবাননে জন্মগ্রহণ করে এবং যুক্তরাজ্যে বড় হয়েছেন, ফলে তাদের বহুমুখী সাংস্কৃতিক পটভূমি গড়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্লুনি তার নতুন চলচ্চিত্র “জে কেলি” প্রচারের সময় ফরাসি জীবনকে তার পরিবার ও সন্তানদের জন্য “সম্পূর্ণ উপযুক্ত” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ফ্রান্সের পরিবেশ তাদের জন্য আদর্শ এবং তারা এখানে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে।
ফরাসি নাগরিকত্বের মাধ্যমে ক্লুনি পরিবারটি এখন আইনগতভাবে ফ্রান্সের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পরিকল্পনাকে আরও দৃঢ় করেছে। স্থানীয় সমাজে তাদের সরলতা ও সহজলভ্যতা ইতিমধ্যে ইতিবাচক স্বীকৃতি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও মসৃণ সংহতি নিশ্চিত করবে।



