শুবমান গিল, কে.এল. রাহুল এবং রবীন্দ্র জাডেজা তিনজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার জানুয়ারি মাসে দেশের প্রধান ৫০‑ওভার ভিকি হজারে ট্রফি টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। গিলের জন্য প্রথম দুই ম্যাচ ৩ এবং ৬ জানুয়ারি নির্ধারিত, যেখানে তিনি পাঞ্জাবের হয়ে সিক্কিম ও গোয়া দলের মুখোমুখি হবেন, এবং সব ম্যাচ জয়পুরের জয়পুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে রাহুল ও জাডেজা তাদের নিজ নিজ রাজ্য দলের হয়ে টুর্নামেন্টে নামবেন, যদিও তাদের নির্দিষ্ট শেডিউল মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
শুবমান গিলের অংশগ্রহণের খবর ভিকি হজারে ট্রফি আয়োজনকারী সংস্থার অফিসিয়াল সূচিতে প্রকাশিত হয়েছে। গিল পাঞ্জাবের হয়ে ৩ জানুয়ারি সিক্কিমের বিরুদ্ধে এবং ৬ জানুয়ারি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলবেন, যা টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত। গিলের উপস্থিতি পাঞ্জাবের রোস্টারকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় ভক্তদের জন্য বড় আকর্ষণ হবে।
কে.এল. রাহুলের অংশগ্রহণের তথ্যও একই সূত্রে জানানো হয়েছে। রাহুল তার নিজ রাজ্য দলের হয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি দেশের ঘরে ঘরে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াবে। রাহুলের অভিজ্ঞতা ও ব্যাটিং দক্ষতা দলকে মাঝারি ও উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে সান্ত্বনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রবীন্দ্র জাডেজা, যিনি সব দিকেই বহুমুখী খেলোয়াড়, টুর্নামেন্টে তার রাজ্য দলের হয়ে অংশ নেবেন। জাডেজার অলরাউন্ডার ক্ষমতা পিচের শর্ত যাই হোক না কেন, দলকে সুষম করতে সাহায্য করবে। তার ফিল্ডিং ও স্পিনের দক্ষতা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।
তিনজনের এই যোগদান ভিকি হজারে ট্রফিকে নতুন মাত্রা যোগ করবে। আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতিমান খেলোয়াড়দের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের মান ও দৃষ্টিগোচরতা বাড়াবে, এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য উচ্চমানের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে। এই ধরনের স্টার পাওয়ার টুর্নামেন্টের দর্শকসংখ্যা বাড়াবে এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
ভিকি হজারে ট্রফি ২০২৪‑২৫ মৌসুমে এলিট ও প্লেট গ্রুপে বিভক্ত, যেখানে মোট ৩৬টি দল অংশগ্রহণ করবে। এলিট গ্রুপে রাজ্য দলগুলোকে এ, বি, সি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, আর প্লেট গ্রুপে মণিপুর, মিজোরাম, বিহার, নাগাল্যান্ড, আরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয় ইত্যাদি দল রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে একবার করে খেলে, এবং শীর্ষ দলগুলো সেমি‑ফাইনাল ও ফাইনালের দিকে অগ্রসর হয়।
সিক্কিম ও গোয়া দলের সঙ্গে পাঞ্জাবের ম্যাচের পাশাপাশি, টুর্নামেন্টের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো জয়পুর, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ এবং অন্যান্য শহরে নির্ধারিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হরিয়ানা ও রাজস্থান, কেরালা ও রাজস্থান, এবং মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখণ্ডের মধ্যে ম্যাচগুলোও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিস্তৃত সূচি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেটের উন্মাদনা ছড়িয়ে দেবে।
ফ্যানদের উত্তেজনা ইতিমধ্যে বাড়ছে, কারণ ভিকি হজারে ট্রফি এখনো দেশের সবচেয়ে পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ একদিনের প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়। গিল, রাহুল ও জাডেজার উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হবে, যারা তাদের সঙ্গে মাঠে মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়। কোচিং স্টাফও এই সুযোগকে ব্যবহার করে দলীয় কৌশল ও শারীরিক প্রস্তুতি উন্নত করার পরিকল্পনা করেছে।
পাঞ্জাবের জন্য গিলের পরবর্তী ম্যাচ ৯ জানুয়ারি নির্ধারিত, যেখানে তারা হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে খেলবে। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ দেবে। গিলের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পাঞ্জাবের টুর্নামেন্টে অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
ভিকি হজারে ট্রফি পুরো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে চলবে, এবং শেষ পর্যন্ত শীর্ষ চার দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে, এবং দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে। ভিকি হজারে ট্রফির এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি বড় উৎসবের মতো।



