চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা অ্যানোয়ারা-তে দুই ছোট শিশুর তাড়া-দরিদ্র অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর, জেলা উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ান তৎক্ষণাৎ তাদের চিকিৎসা, সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চার বছর বয়সী মেয়ে ও দুই বছর বয়সী ভাইকে রবিবার সন্ধ্যায় বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় রাস্তায় বসে পাওয়া যায়। তীব্র শীতলতার মধ্যে দু’জনই শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখায়।
স্থানীয় সিএনজি রিকশা চালক মাহিম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী শারমিন আখতার শিশুরা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই উষ্ণ পানিতে স্নান করিয়ে, গরম খাবার দিয়ে সাময়িক স্বস্তি প্রদান করেন। শারমিন উল্লেখ করেন, ছোট ভাইটি শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় রয়েছে, ফলে তাপমাত্রা হ্রাসে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত দেখা দেয়।
সেই সন্ধ্যায় শিশুরা রাস্তায় বসে থাকা দৃশ্যটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মেয়ে তার ভাইকে গদে গদে ধরে রাখে, যা নাগরিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনা সৃষ্টি করে। অনলাইন মন্তব্যে শিশুরা কীভাবে এভাবে একা রাস্তায় বসে থাকতে পারে, এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
এই পরিস্থিতি জানার সঙ্গে সঙ্গে জেলা উপ-কমিশনার মহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ান অ্যানোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আখতারকে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে শিশুরা নিয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিতে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আদেশ দেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুরা মঙ্গলবার জেলা উপ-কমিশনারের অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ডি.সি. শিশুর শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক পটভূমি পর্যালোচনা করেন। ভাইয়ের অবস্থা বিশেষভাবে দুর্বল হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বিশেষ বিভাগে ভর্তি করা হয়, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপরীক্ষা ও শীতজনিত সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য পর্যবেক্ষণ চালু থাকে।
ডি.সি. চিকিৎসা ব্যয় ও তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয়তার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং সামাজিক সেবা বিভাগের মাধ্যমে শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গঠন করার নির্দেশ দেন। সামাজিক সেবা কর্মীরা শিশুর বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা, পুষ্টি চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
মাহিম উদ্দিনের মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতিতে ডি.সি. তাকে দশ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার প্রদান করেন। মাহিম বলেন, তিনি কোনো স্বার্থের জন্য নয়, কেবল মানবিক দায়িত্ববোধে শিশুরা রাস্তায় বসে থাকা দেখে তৎক্ষণাৎ সাহায্য করেন। পুরস্কার পেয়ে তিনি আরও উৎসাহিত বোধ করেন, যাতে অন্যরাও অনুরূপ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতল পরিবেশে শারীরিক দুর্বলতা ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে, বিশেষ করে দুই বছরের নিচের শিশুরা। তাই তীব্র শীতের সময় শিশুরা যথাযথ পোশাক, উষ্ণতা এবং পুষ্টিকর খাবার পায় নিশ্চিত করা জরুরি। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা না করলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এই ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। নাগরিকদের সচেতনতা ও তৎক্ষণাৎ প্রতিবেদন শিশুর নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে, প্রতিবেশী ও সমাজের সদস্যদের উচিত দরিদ্র ও অসহায় শিশুরা দেখলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে জানানো এবং প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করা। আপনার এলাকায় যদি এমন কোনো শিশু সমস্যায় থাকে, দয়া করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।



