তেহরান শহরে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদের প্রতিবাদ দেখা যায়, যা একদিন আগে শপিং মল মালিকদের অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদে অংশগ্রহণের পর ঘটেছে। প্রেসিডেন্টের সমঝোতার বার্তা পাওয়ার পর, তেহরানের সাতটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসফাহানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসে। এই আন্দোলনটি রাজধানীর ব্যাংক, স্কুল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শীতের তীব্র ঠাণ্ডা থেকে শক্তি সাশ্রয়ের জন্য অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনার আগে ঘটে।
ইলনা সংবাদ সংস্থা, যা ইরানের শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, জানায় যে তেহরানের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবং ইসফাহানের প্রযুক্তি ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্ররা মূলত মুদ্রা অবমূল্যায়ন, আমদানি পণ্যের দামের বৃদ্ধি এবং রিটেইল ব্যবসায়ীর ওপর চাপের দিকে ইঙ্গিত করে। একই সময়ে, রিয়াল ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়; রবিবারে এক ডলার প্রায় ১.৪২ মিলিয়ন রিয়াল দামের দিকে পৌঁছায়, যা এক বছর আগে ৮২০,০০০ রিয়ালের তুলনায় বেশি।
তেহরানের কেন্দ্রীয় রাস্তাগুলোতে বড় পরিসরের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে প্রধান চৌরাস্তা এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে। শপিং মলগুলোতে গতকাল বন্ধ থাকা কিছু দোকান আবার খোলা হয়েছে, যদিও শহরের বৃহত্তম মোবাইল ফোন বাজারে রবিবারের দিন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়ে, তবে তা সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারী এবং কেন্দ্রীয় তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকে। শহরের অন্যান্য অংশে বেশিরভাগ দোকান স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি ইরানের শাসন কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহা আলি খামেনীর তুলনায় সীমিত ক্ষমতা রাখেন, মঙ্গলবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে তিনি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়কে প্রতিবাদকারীদের বৈধ দাবি শোনার জন্য তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সরকার সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারে।
রাষ্ট্র টেলিভিশনের মতে, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের ঘা (Mohammad Bagher Gha) এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং সরকারী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তেহরানের শীতল আবহাওয়া এবং শক্তি সাশ্রয়ের জন্য পরিকল্পিত অস্থায়ী বন্ধের ফলে ব্যাংক, স্কুল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রমে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনমতকে আরও উত্তেজিত করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষকরা ইরানের মুদ্রা অবমূল্যায়ন এবং তীব্র শীতের প্রভাবকে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। রিয়ালের অবনতি আমদানি পণ্যের দামের বৃদ্ধি ঘটিয়ে রিটেইল ব্যবসায়ীর ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা কর্মী ও ছাত্র উভয়েরই প্রতিবাদে প্রেরণা যোগায়।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় সাইনবোর্ড এবং পোস্টার ব্যবহার করে তাদের দাবি প্রকাশ করে, যেখানে তারা মুদ্রা অবমূল্যায়ন, বেকারত্ব এবং মৌলিক সেবার ঘাটতির বিরুদ্ধে আহ্বান জানায়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও, কোনো বড় আকারের ধ্বংস বা সংঘর্ষের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
শপিং মল মালিকদের একদিন আগে করা প্রতিবাদে সরকারী পক্ষ থেকে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ার পর, ছাত্রদের এই পদক্ষেপকে একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীর সমন্বিত দাবি সরকারকে অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, বিশেষ করে মুদ্রা স্থিতিশীলতা এবং শক্তি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে।
ভবিষ্যতে, তেহরানের সরকার কীভাবে এই বহুমুখী প্রতিবাদকে মোকাবেলা করবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না হয়, তবে আরও বৃহত্তর জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং সম্ভবত অতিরিক্ত সেক্টরের বন্ধের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তেহরানের শীতল আবহাওয়া এবং শক্তি সাশ্রয়ের জন্য পরিকল্পিত অস্থায়ী বন্ধের ফলে ব্যাংক, স্কুল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রমে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনমতকে আরও উত্তেজিত করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, ইরানের শাসন কাঠামোর উচ্চতর স্তরের নেতৃত্বের ভূমিকা এবং তাদের নীতি সমন্বয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।



