পশ্চিম জার্মানির গেলসেনকিরচেন শহরে অবস্থিত স্পার্কাসে সেভিংস ব্যাংকের শাখা থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের নগদ, সোনা ও গহনা চুরি করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার ভোরে অগ্নি সতর্কতা বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায়। চোররা বড় ড্রিল ব্যবহার করে সুরক্ষিত সেফ ডিপোজিট বক্সগুলো ভেঙে নেয়।
পুলিশের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, এই চুরি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দুটোই অত্যন্ত পেশাদারী ছিল এবং হলিউডের হাইস্ট চলচ্চিত্রের স্মরণ করিয়ে দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “বেশি পরিকল্পিত” বলে বর্ণনা করেন।
স্পার্কাস ব্যাংকের গেলসেনকিরচেন শাখা শহরের বুয়ের জেলা, নিয়েনহফস্ট্রাসে অবস্থিত। চোররা ৩,০০০টিরও বেশি সেফ ডিপোজিট বক্সে প্রবেশ করে, যেখানে গ্রাহকদের নগদ, সোনা ও গহনা সংরক্ষিত ছিল।
অগ্নি সতর্কতা সক্রিয় হওয়ার পরই গেলসেনকিরচেন পুলিশ ঘটনাটির খবর পায় এবং দ্রুত现场ে পৌঁছে। নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ডে দেখা যায়, চোররা শীতের ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে গ্যারেজের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চোররা পার্কিং গ্যারেজের সংলগ্ন সিঁড়ি ব্যবহার করে গুদাম ঘরে পৌঁছেছে এবং রাতের বেলা বড় ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামা দেখা গেছে।
গ্যারেজের সিঁড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একটি কালো অডি আরএস ৬ গাড়ি দে-লা-চেভালেরি-স্ট্রাসে রাস্তায় গতি বাড়িয়ে চলে যায়, যা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। গাড়িটি চোরদের পালানোর পথে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নি সতর্কতা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুদাম ঘরের মেঝেতে একটি বড় গর্ত দেখা যায়, যা ড্রিলের কাজের ফলাফল। পুলিশ ও অগ্নি দমনের দল একসাথে ঘরে প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরীক্ষা করে।
ব্যাংকের গ্রাহকদেরকে জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের সেফ ডিপোজিট বক্সের অবস্থা জানাতে পারে। ব্যাংক জানায়, বক্সের ৯৫% চোরদের দ্বারা জোরপূর্বক খোলা হয়েছে, ফলে অধিকাংশ গ্রাহকের সম্পদ ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিটি বক্সের বিষয়বস্তু সর্বোচ্চ ১০,৩০০ ইউরো পর্যন্ত বীমা করা আছে, এবং গ্রাহকদেরকে তাদের বাড়ি বীমা নীতি দিয়ে অতিরিক্ত কভারেজ আছে কিনা তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
সোমবারের পরে, ব্যাংকের শাখার প্রবেশদ্বারটি পুলিশ সুরক্ষিত করে, যেখানে অনেক গ্রাহক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য শাখাটি মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে।
গেলসেনকিরচেন পুলিশ এখনো কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করতে পারেনি এবং চোরদের সনাক্তকরণের জন্য অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যারেজের সিকিউরিটি ক্যামেরা রেকর্ড এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অধিক তদন্তে চোরদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম, গ্যারেজের প্রবেশপথ এবং গাড়ির মালিকানা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রমাণ সংগ্রহের পর, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই চুরি ঘটনা জার্মানির ব্যাংকিং সেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে সেফ ডিপোজিট বক্সের সুরক্ষা বাড়াতে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
সামগ্রিকভাবে, গেলসেনকিরচেনের এই ব্যাংক হাইস্টে বড় পরিমাণ নগদ ও মূল্যবান বস্তু চুরি হয়েছে, এবং এখনো অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।



