চেভি চেজের জীবনের অজানা দিকগুলোকে কেন্দ্র করে মারিনা জেনোভিচের নতুন ডকুমেন্টারি, ‘আই’ম চেভি চেজ অ্যান্ড ইউর নট’, ১ জানুয়ারি শীতকালীন রাত ৮টায় সিএনএনে সম্প্রচারিত হয়। ৯৭ মিনিটের এই প্রোগ্রামটি চেজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে তুলে ধরে, যার মধ্যে ২০২১ সালে হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার কারণে আট দিন কমা অবস্থায় থাকা, স্যাটারডে নাইট লাইভের ৫০তম বার্ষিকী বিশেষ অনুষ্ঠানে তার ব্যবহার না হওয়া এবং তার স্বভাবের কঠোরতা অন্তর্ভুক্ত। ডকুমেন্টারিটি দর্শকদেরকে প্রশ্নের মুখে ফেলে যে, এই প্রকাশনাগুলো চেজকে আরও মানবিক করে তুলবে নাকি তার ইতিমধ্যে জটিল চিত্রকে আরও জটিল করে দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেলিব্রিটি ও সত্যিকারের অপরাধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ডকুমেন্টারিগুলোর সংখ্যা বাড়ছে। এই ধারার কাজগুলো প্রায়ই প্রচারমূলক উদ্দেশ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, যেখানে শিরোনামগুলো “১০টি বিষয় যা আমরা শিখেছি…” বা “[বিখ্যাত ব্যক্তির নাম] অবশেষে প্রকাশ করলেন…” রকমের আকর্ষণীয় বাক্য দিয়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে এই ধরনের প্রোগ্রামগুলো প্রায়ই গভীর বিশ্লেষণ বা আত্মপর্যালোচনা থেকে দূরে থাকে।
চেভি চেজের ক্ষেত্রে, জেনোভিচের কাজটি এই প্রবণতার থেকে কিছুটা আলাদা। যদিও ডকুমেন্টারিটি অনুমোদিত, তবু এতে চেজের স্বভাবের কঠোরতা ও তার পেশাগত জীবনের অমীমাংসিত দিকগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চেজের হৃদযন্ত্রের সমস্যার ফলে তিনি আট দিন কমা অবস্থায় ছিলেন, যা তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ ছিল। এই ঘটনার পর তিনি পুনরুদ্ধার করেন, তবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান।
ডকুমেন্টারিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চেজের স্যাটারডে নাইট লাইভের ৫০তম বার্ষিকী বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি ব্যবহার না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। এই বিষয়টি তার ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে তিনি নিজের প্রাসঙ্গিকতা ও শিল্পের পরিবর্তনশীল প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া, ডকুমেন্টারিটি চেজের স্বভাবের কঠোরতা—যা তার দীর্ঘদিনের সুনাম—কে পুনরায় তুলে ধরে, যদিও তিনি এই অনুমোদিত প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
ডকুমেন্টারির মূল প্রশ্ন হল, এই প্রকাশনাগুলো দর্শকের চেজের প্রতি ধারণাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে। কিছু দর্শক হয়তো তাকে আরও মানবিক দৃষ্টিতে দেখবেন, কারণ তিনি স্বাস্থ্যের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। অন্যদিকে, তার স্বভাবের কঠোরতা ও পেশাগত অসন্তোষের প্রকাশ তার ইতিমধ্যে জটিল চিত্রকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। ডকুমেন্টারিটি এই দ্বন্দ্বকে উন্মোচন করে, যা দর্শকের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ডকুমেন্টারির প্রকাশের আগে, চেজের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংবাদ ইতিমধ্যে মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছিল। ২০২১ সালে তার হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার ফলে আট দিন কমা অবস্থায় থাকা, এবং তার কন্যা তার ডাক্তারদের মন্তব্য স্মরণ করে যে “আমরা হয়তো তাকে ফিরে পাব না”—এগুলো তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, সিএনএনের অন্যান্য সংবাদে স্যাটারডে নাইট লাইভের লেখক জিমি ফোয়েলির অনুপস্থিত বোনের সন্ধানে সহায়তা চাওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে। এই সব তথ্য ডকুমেন্টারির বিষয়বস্তুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে চেজের জীবনের বহুমুখী দিকগুলোকে আরও স্পষ্ট করে।
ডকুমেন্টারিটি সিএনএনের লাইফস্টাইল ও বিনোদন বিভাগে বিশেষ স্থান পেয়েছে, যেখানে এটি দর্শকদেরকে চেজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে। যদিও ডকুমেন্টারিটি তার স্বভাবের কঠোরতা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরলেও, এটি চেজের মানবিক দিকগুলোকে উপেক্ষা করে না। তার স্বাস্থ্যের সমস্যার পর পুনরুদ্ধার, পারিবারিক সমর্থন এবং শিল্পের পরিবর্তনশীল পরিবেশে তার অবস্থান—এগুলো সবই ডকুমেন্টারির মূল থিম।
সারসংক্ষেপে, ‘আই’ম চেভি চেজ অ্যান্ড ইউর নট’ ডকুমেন্টারিটি চেজের জীবনের অজানা দিকগুলোকে উন্মোচন করে, যা দর্শকদেরকে তার প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ডকুমেন্টারির মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো চেজের মানবিক দিককে জোর দেয়, তবে তার স্বভাবের কঠোরতা ও পেশাগত অসন্তোষের বিষয়গুলোও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এই দ্বন্দ্বই ডকুমেন্টারিটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে এবং দর্শকদেরকে প্রশ্নের মুখে ফেলে যে, চেজের এই নতুন প্রকাশনাগুলো তাকে আরও মানবিক করে নাকি তার জটিল চিত্রকে আরও জটিল করে।
ডকুমেন্টারিটি সিএনএনের শো টাইমে ১ জানুয়ারি রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হওয়ায়, বিনোদনপ্রেমী ও চলচ্চিত্রের অনুরাগীরা এটি দেখতে পারেন। চেজের ভক্তরা এবং তার ক্যারিয়ারকে অনুসরণকারী দর্শকরা এই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তার জীবনের বিভিন্ন দিককে পুনরায় মূল্যায়ন করার সুযোগ পাবে।



