ব্রিটিশ থ্রিলার সিরিজ ‘রেড আই’ শীঘ্রই সিজন ২ দিয়ে ফিরে আসছে, যেখানে ২০২৬ সালের প্রথম দিনে নতুন কাহিনী দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হবে। সিরিজটি ITV1 ও STV-তে রাত ৯টায় সম্প্রচার হবে এবং একই সঙ্গে ITVX ও STV Player-এ স্ট্রিমিং করা যাবে।
‘রেড আই’ মূলত Bad Wolf এবং Sony Pictures Television (SPT) যৌথভাবে তৈরি, এবং পিটার এ. ডাউলিং এর সৃষ্টিকর্ম। প্রথম সিজনে যে উত্তেজনা ও গোপনীয়তা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তা এই নতুন সিজনে আরও তীব্রতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিজনে লন্ডনের পুলিশ অফিসার হানা লি (জিং লুসি) পুনরায় ফিরে আসছেন, আর স্কটিশ অভিনেতা মার্টিন কম্পস্টন (লাইন অফ ডিউটি, ভিজিল) নতুন চরিত্র ক্লে ব্রডি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। ক্লে ব্রডি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের লন্ডন দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রধান, যিনি সিরিজের মূল কাহিনীর কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। এছাড়া জেমা মুর এবং লেসলি শার্প (পিলিয়ন) পুনরায় উপস্থিত থাকবেন।
সিজন ২-এ হানা লি ও ক্লে ব্রডি দুজনকে একসাথে কাজ করতে হবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভিতরে এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দুজনকে সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়াতে হবে, হত্যাকারীকে ধরা এবং সম্ভবত একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে। এই মিশনটি তাদের অতীতের বিরোধগুলোকে পেছনে ফেলে একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
প্রথম এপিসোডের প্রিমিয়ার নতুন বছরের প্রথম দিনে, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি, রাত ৯টায় টেলিভিশনে প্রচারিত হবে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং সুবিধা থাকায় দর্শকরা পছন্দমতো সময়ে সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন।
মার্টিন কম্পস্টন ক্লে ব্রডি চরিত্রে অভিনয়কে “একটি উপহার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার চরিত্রের নিরাপত্তা প্রধানের ভূমিকায় শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং গোপনীয়তা উভয়ই রয়েছে, যা তাকে উত্তেজনা দেয়।
অভিনয় ছাড়াও, কম্পস্টন অ্যাকশন দৃশ্য এবং স্টান্টে অংশ নিতে বিশেষ আনন্দ পান। তিনি বলছেন, হাতের ঘড়িতে ডিভাইস বসিয়ে কানে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা, এমন ছোটখাটো গ্যাজেটের সঙ্গে কাজ করা তাকে মুগ্ধ করে। এই ধরনের কাজ তাকে শৈশবের সময় দেখা ইনডিয়ানা জোন্স ও জেমস বন্ডের সিনেমার স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।
কম্পস্টন ৪০-এর দশকের শুরুর দিকে আছেন, তবু তিনি জানিয়েছেন যে এই ধরনের শারীরিক ও রোমাঞ্চকর ভূমিকা ভবিষ্যতে কমে যেতে পারে। তাই তিনি বর্তমান সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করে আনন্দ উপভোগ করছেন, এবং দর্শকদের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য উপস্থাপন করতে চান।
জিং লুসি হানা লি চরিত্রে ফিরে এসে স্টান্টের আনন্দকে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ অফিসার হিসেবে শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং অ্যাকশন দৃশ্যের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য একটি স্বাভাবিক অভ্যাসের মতো। লুসি স্টান্টের সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও গ্লাভসের ব্যবহারকে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেছেন, যা তার কাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে গ্লাভসের মাধ্যমে অস্ত্র পরিচালনা ও হাতের গতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হয়, যা সাধারণত দেখা যায় না। লুসি এই চ্যালেঞ্জকে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং দর্শকদের জন্য বাস্তবিক ও তীব্র অ্যাকশন দৃশ্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শুটিং প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে চললেও, সিরিজের গল্পের সময়সীমা মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কম্পস্টন এই রকম ঘন ঘন সময়সীমাকে “২৪” সিরিজের মতো তুলনা করেছেন, যেখানে একটানা তীব্রতা বজায় থাকে। শেষ পর্যন্ত, তিনি এবং সহ-অভিনেতারা একসাথে কাজ করে একটি গভীর সংযোগ গড়ে তুলেছেন বলে জানান।
‘রেড আই’ সিজন ২-এ নতুন কাহিনী, তীব্র স্টান্ট এবং পুরনো ও নতুন চরিত্রের মেলবন্ধন দর্শকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সিরিজের উন্মাদনা এবং অ্যাকশন ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় উপহার, এবং নতুন বছরের সূচনায় এই থ্রিলারটি টেলিভিশন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে উপভোগ করা যাবে।



