২০২৫ সালে প্রকাশিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম গবেষণা প্রাচীন পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে। একটি গবেষণায় ছোট তির্যনোসর ন্যানোটাইর্যানাসের পূর্ণবয়স্ক রূপ নিশ্চিত করা হয়েছে, আর অন্যটি ৪৭ মিলিয়ন বছর পুরনো সিকেডা প্রজাতির প্রথম গানের রেকর্ড প্রকাশ করেছে।
ন্যানোটাইর্যানাসের নতুন পরিচয় একটি বিখ্যাত “ডুয়েলিং ডাইনোসর্স” জীবাশ্মের বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসেছে। এই জীবাশ্মের মুখের হাড়ের নরমাল প্যাটার্ন, সাইনাসের গঠন এবং অতিরিক্ত দাঁতের উপস্থিতি টায়রানোসরাস রেক্সের তুলনায় স্পষ্ট পার্থক্য দেখায়।
দুটি স্বতন্ত্র গবেষণা দল একই সময়ে একই ফলাফল পেয়েছে। প্রথম দলটি ছোট তির্যনোসরের অঙ্গ বিশ্লেষণ করেছে, আর দ্বিতীয় দলটি মূল স্কালের সঙ্গে পাওয়া গলা হাড়ের বৃদ্ধির চিহ্ন পরীক্ষা করেছে। উভয়ই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে এই নমুনাগুলি পূর্ণবয়স্ক ন্যানোটাইর্যানাস ল্যান্সেন্সি।
এই প্রজাতি প্রায় ৬৭ মিলিয়ন বছর আগে, টায়রানোসরাস রেক্সের সঙ্গে সমসাময়িকভাবে বাস করত। ফলে, ন্যানোটাইর্যানাসকে কেবল টায়রানোসরাসের কিশোর রূপ হিসেবে না দেখে, আলাদা প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এই ফলাফল দীর্ঘদিনের বিতর্কের সমাধান ঘটায়। ১৯৪০-এর দশকে আবিষ্কৃত একটি রহস্যময় স্কালকে নিয়ে বিজ্ঞানীরা দুই দিক থেকে মত পোষণ করতেন—একদিকে এটি নতুন প্রজাতি ন্যানোটাইর্যানাসের স্কাল, অন্যদিকে এটি তরুণ টায়রানোসরাস রেক্সের হাড়।
নতুন বিশ্লেষণে কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি এবং তুলনামূলক শারীরবিজ্ঞান ব্যবহার করে হাড়ের নরমাল ও সাইনাসের গঠন বিশদে দেখা হয়েছে। এই পদ্ধতি পূর্বের অনুমানকে চূড়ান্তভাবে খণ্ডন করে, এবং তির্যনোসর গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যকে পুনরায় মূল্যায়নের দরজা খুলে দেয়।
সেই সঙ্গে, জার্মানির মেসেল পিটে পাওয়া একটি প্রাচীন সিকেডা জীবাশ্মও নতুন আলো ফেলেছে। ৪৭ মিলিয়ন বছর পুরনো এই জীবাশ্মটি ইওপ্লাটিপেলুরা মেসেলেন্সিস নামে একটি নতুন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, যা আধুনিক গায়ক সিকেডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
এই জীবাশ্মে দুটি নারী সিকেডা রক্ষা করা হয়েছে, যা পূর্বে কেবল পুরুষদের গানের রেকর্ডের মাধ্যমে জানা যায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই প্রজাতির নারীর হাড়ের গঠন থেকে সঙ্গীত উৎপাদনের কোনো সরাসরি চিহ্ন না থাকলেও, গানের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে সিকেডা গানের বিকাশের শিকড় অনেক আগেই গড়ে উঠেছিল।
প্রায় ১৭ মিলিয়ন বছর আগে পর্যন্ত সিকেডা গানের সর্বপ্রথম রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হতো, তবে এই নতুন আবিষ্কার তা পরিবর্তন করে। ফলে, কীটপতঙ্গের শব্দগত যোগাযোগের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
আধুনিক সিকেডা গায়ক পুরুষই গায়, তবে এই প্রাচীন প্রজাতিতে গানের ভূমিকা কী ছিল তা এখনও গবেষণার বিষয়। তবু, এই জীবাশ্মটি দেখায় যে সিকেডা গানের মৌলিক কাঠামো ইতিমধ্যে ইওসিন যুগে বিদ্যমান ছিল।
এই দুইটি গবেষণা একসাথে প্রাচীন জীববৈচিত্র্যের জটিলতা এবং তার বিবর্তনীয় পথকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখায়। বিজ্ঞানীরা এখন আরও গভীর বিশ্লেষণ এবং অতিরিক্ত জীবাশ্ম অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই সময়ের জীবনের পূর্ণ চিত্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
পাঠকরা যদি এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সংবাদপত্র ও প্রকাশনা অনুসরণ করা উপকারী হবে। আপনার কি মনে হয়, ভবিষ্যতে আর কোন প্রাচীন জীবের আবিষ্কার আমাদের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় খুলে দেবে?



