19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনহাইবি নিউজিন্সের সদস্য ড্যানিয়েল মার্শ ও প্রাক্তন সিইওকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মামলা...

হাইবি নিউজিন্সের সদস্য ড্যানিয়েল মার্শ ও প্রাক্তন সিইওকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মামলা দায়ের

দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জায়ান্ট হাইবি, নিউজিন্সের রেকর্ড লেবেল অ্যাডোরের মূল কোম্পানি, ড্যানিয়েল মার্শ, তার পারিবারিক সদস্য এবং প্রাক্তন সিইও মিন হি-জিনের বিরুদ্ধে ৩০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২ মিলিয়ন পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ ও চুক্তি ভঙ্গের জরিমানা দাবি করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

হাইবি এই মামলায় উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে লেবেলকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি করেছে এবং তাই আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে ক্ষতিপূরণ আদায়ের অধিকার রয়েছে। মামলায় ড্যানিয়েল মার্শের পারিবারিক সদস্যের নামও অন্তর্ভুক্ত, যা নির্দেশ করে যে পরিবারিক স্তরে আর্থিক দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এই আইনি প্রক্রিয়া নিউজিন্সের দলের গঠনকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। দলের মূল সদস্য মিনজি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত, ফলে বর্তমানে দলটি মাত্র তিনজন সদস্য নিয়ে কাজ করছে। পূর্বে পাঁচজন সদস্যের দল হিসেবে ফিরে আসার কথা জানানো হলেও, এই মামলা সেই প্রত্যাশাকে নষ্ট করেছে।

ফ্যানদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক্স (পূর্বের টুইটার) এ “নিউজিন্স পাঁচজনের দল নয়, কিছুই নয়” শিরোনামে পোস্ট করা হয়, আর অন্যরা ড্যানিয়েলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছে। ইনস্টাগ্রামে “সব পাঁচজনকে মুক্ত করুন” শিরোনামে পোস্ট করা মন্তব্যগুলো দলকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

নিউজিন্স ২০২২ সালে ডেবিউ করার এক বছর পরই বিশ্বব্যাপী অষ্টম বৃহত্তম বিক্রয়কারী শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯০-এর দশকের আর অ্যান্ড বি ও মিষ্টি পপ সুরের সংমিশ্রণ তাদের সঙ্গীতকে নতুন ধারায় গড়ে তুলেছিল, যা সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। তবে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পরই লেবেল অ্যাডোরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

২০২৪ সালে অ্যাডোরের প্রাক্তন সিইও মিন হি-জিনের বিতর্কিত বরখাস্তের পর দলটি গভীর সংকটে পড়ে। মিন হি-জিনকে সদস্যরা মেন্টর হিসেবে গণ্য করত, তাই তার পদত্যাগের ফলে দলের অভ্যন্তরে বিশ্বাসের ফাটল দেখা দেয়। এই ঘটনার পর দলটি লেবেলকে “অবহেলা” এবং “ইচ্ছাকৃত ভুল যোগাযোগ ও প্রভাবিতকরণ” এর অভিযোগে অভিযুক্ত করে এবং বিচ্ছেদের ইচ্ছা প্রকাশ করে।

অ্যাডোর এই বিচ্ছেদের পরিকল্পনাকে বাধা দেওয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ে প্রবেশ করে এবং অক্টোবর মাসে জেলা আদালতকে জয়ী করে। আদালতের রায়ে নিউজিন্সকে চুক্তি মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে দলটি আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকে লেবেল ছেড়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। এই রায়ের পরেও দল ও লেবেলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে নিউজিন্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় আছে। ফ্যানবেসের দৃঢ় সমর্থন সত্ত্বেও, আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং দলের গঠনগত সমস্যার কারণে নতুন অ্যালবাম বা ট্যুরের পরিকল্পনা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ভক্তদের আশা এখনও টিকে আছে যে দলটি পূর্ণাঙ্গ রূপে ফিরে আসবে এবং তাদের সঙ্গীতের নতুন অধ্যায় শুরু করবে।

এই পরিস্থিতি কোরিয়ার পপ শিল্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশকে আবারও উন্মোচন করে। তরুণ শিল্পী ও বড় লেবেলের মধ্যে চুক্তিগত সম্পর্ক, মেন্টরশিপ ও সৃজনশীল স্বাধীনতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা ভবিষ্যতে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। নিউজিন্সের এই আইনি সংগ্রাম কেবল একটি দল নয়, পুরো শিল্পের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments