খুলনা জেলার সোনাদাঙ্গা থানা এলাকায় ২২ ডিসেম্বর সকাল ১১:৪৫টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শ্রম শাখার কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মোটালেব শিকদার গুলি হেনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ডাক্তাররা গুলির ক্ষতি সম্পর্কে জানিয়েছেন, তবে গুলির সঠিক অবস্থান ও আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
শুটিংয়ের পরপরই পাকিস্তানি মিডিয়ার একটি সংস্থা ঘটনাটির সঙ্গে ভারতের গোপন গোয়েন্দা সংস্থা রা.ও.ডি.-এর জড়িততা যুক্ত করে দাবি প্রকাশ করে। ওই সংস্থা দাবি করে যে, ইন্টারভিউতে তদন্তকারী অফিসার রা.ও.ডি.-এর ভূমিকা উল্লেখ করেছেন। তবে সোনাদাঙ্গা থানা ইনস্পেক্টর (ইনভেস্টিগেশন) অনিমেষ মন্ডল এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এমন কোনো মন্তব্য করিনি এবং টাইমস অব ইসলামাবাদের সঙ্গে কোনো কথোপকথনও হয়নি।”
স্বাধীন অনলাইন যাচাই প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাবের সঙ্গে অনিমেষ মন্ডল সাক্ষাৎকারের পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনস্পেক্টর মন্ডল রা.ও.ডি.-এর কোনো উল্লেখ না করার কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। ডিসমিসল্যাবের দল টাইমস অব ইসলামাবাদের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পায়নি।
বাংলাদেশের স্থানীয় মিডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে রা.ও.ডি.-এর কোনো জড়িততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ২২ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিশ্বাস করে যে শিকদার গুলি হয়েছিল পারিবারিক সংঘর্ষের ফলে।” এতে রা.ও.ডি.-এর কোনো উল্লেখ নেই।
পাকিস্তানি মিডিয়া যে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে, তার সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে রা.ও.ডি.-এর কোনো উল্লেখ নেই। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে অফিস-ইন-চার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, অনিমেষ মন্ডলকে নয়।
দ্য ডেইলি স্টারের খুলনা প্রতিবেদক দীপঙ্কর রায়ের সঙ্গে ডিসমিসল্যাবের আলোচনায় জানা যায়, শিকদার গুলির বিষয়ে তিনি অফিস-ইন-চার্জ রফিকুল ইসলামকে সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। রায় নিশ্চিত করেন, গুলি সংক্রান্ত কোনো মন্তব্যে রা.ও.ডি.-এর উল্লেখ করা হয়নি।
শিকদার গুলির পরপরই স্থানীয় মানুষ তাকে বাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রদান করেন। গুলির ক্ষতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে শিকদারকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের বর্তমান তদন্তের দিকনির্দেশনা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অফিস-ইন-চার্জ রফিকুল ইসলাম গুলির পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা উল্লেখ করে, রা.ও.ডি.-এর কোনো ভূমিকা নেই বলে জোর দিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে।
পাকিস্তানি মিডিয়ার রা.ও.ডি.-সংক্রান্ত দাবি এবং বাস্তব তদন্তের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায়, উভয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য এবং স্বতন্ত্র যাচাই সংস্থার প্রতিবেদন উভয়ই রা.ও.ডি.-এর জড়িততা অস্বীকার করেছে।
শিকদার গুলির ঘটনা এবং তার পরবর্তী তদন্তের প্রেক্ষাপটে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ গুলির কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে যথাযথ তদন্ত চালিয়ে যাবে। কোনো সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গুলির প্রকৃত কারণ উন্মোচন করা এখনই প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে কোনো ভুল তথ্য প্রচার রোধে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।



