দক্ষিণ ভারতের টেলিভিশন জগতে সক্রিয় কন্নড় ও তামিল ভাষার অভিনেত্রী নন্দিনী সিএম, ২৬ বছর বয়সে আত্মহত্যা সন্দেহে মারা গেছেন। তার দেহ ৩০ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর কেঙ্গেরি এলাকার একটি পিজি (পেয়িং গেস্ট) বাসায় পাওয়া যায়।
নন্দিনী কন্নড় ও তামিল টিভি ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। ‘সংঘর্ষ’, ‘মধুমাগালু’, ‘নিনাদে না’ এবং তামিল ধারাবাহিক ‘গৌরী’ সহ বহু জনপ্রিয় প্রোগ্রামে তার উপস্থিতি প্রশংসিত হয়েছে।
পুলিশের মতে, আত্মহত্যার সময়সীমা ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১:১৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২:৩০ের মধ্যে হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নোট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে কেঙ্গেরি পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে।
সহকর্মীরা জানান, ২৮ ডিসেম্বর শুটিংয়ের দিন নন্দিনী স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন এবং কোনো অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি। শুটিং শেষ হওয়ার পরের দিনেই তার দেহ পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও অশান্তিকর করে তুলেছে।
‘গৌরী’ ধারাবাহিকের শেষ পর্বে নন্দিনীর চরিত্র বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। সেই দৃশ্যের শুটিংয়ের কয়েক দিন পরই বাস্তব জীবনে একই পথ বেছে নেওয়া তার আত্মহত্যার সঙ্গে সমান্তরাল দেখা যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি নোট উদ্ধার করেছে, তবে নোটের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত চলমান থাকায় সঠিক কারণ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্টতা নেই।
নন্দিনীর পরিবার, সহকর্মী এবং ভক্তরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীরা তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকের বার্তা শেয়ার করেছেন।
তার কাজের পরিধি এবং জনপ্রিয়তা বিবেচনা করলে, এই ক্ষতি টেলিভিশন শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা। তরুণ অভিনেত্রীর অকাল মৃত্যু শিল্পের মধ্যে শূন্যতা তৈরি করেছে।
কেঙ্গেরি পুলিশ ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে এবং তদন্তের সব দিক অনুসন্ধান করছে। এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত সূত্র প্রকাশ করা হয়নি।
নন্দিনীর মৃত্যু নিয়ে শিল্পের বিভিন্ন গোষ্ঠী শোকের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে। তার স্মৃতি এবং কাজকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে তার নামের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, নন্দিনীর পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, তার স্মৃতিকে স্নেহের সঙ্গে স্মরণ করা উচিত।



