গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক অফিসে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকবই খোলা হয়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি কূটনীতিকরা সমবেদনা প্রকাশের জন্য স্বাক্ষর করেন। শোকবইটি বিকাল ৩টায় উন্মুক্ত করা হয় এবং তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের উচ্চকমিশনার ও দূতাবাসের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মিডিয়া সেল সদস্যের মতে, শোকবইটি ঠিক বিকাল ৩টায় খুলে দেওয়া হয় এবং তৎক্ষণাৎ বেশ কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নতুন নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের দূত জোরিস ফ্রান্সিসকাস গেরার্ডাস ভ্যান বোমেল, চীনের দূত ইয়াও ওয়েন, ওমানের দূত জামিল হাজি ইসমাইল আল বালুশি এবং ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভারমা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
এই কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা শোকবইতে স্বাক্ষর করার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত সমবেদনা জানিয়ে গেছেন। তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকাল ৩:১৫টায় অফিস থেকে বেরিয়ে যান এবং শোকবইতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের মানুষের স্নেহ ও আন্তর্জাতিক সম্মানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, মৃত মাতার জন্য দোয়া চেয়ে দেশের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমানের প্রস্থান শেষে, স্বল্প সময়ের মধ্যে সুইডেন, নেদারল্যান্ডস এবং ইরানের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অফিসে প্রবেশ করেন এবং শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। এই স্বাক্ষরগুলো শোকের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমবেদনা ও সমর্থনকে দৃঢ় করে।
বিএনপি অফিসে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সমবেদনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি বিশেষ অর্থ বহন করে। বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতি এবং শোকবইতে স্বাক্ষর করা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা ও গুরুত্বকে তুলে ধরে।
বিএনপি পক্ষ থেকে শোকবইতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তি মজবুত করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই শোকসন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতারা ও সাধারণ মানুষও সমবেদনা জানিয়ে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সম্মান জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেছেন, শোকবইতে স্বাক্ষরকারী বিদেশি কূটনীতিকদের সমর্থন ভবিষ্যতে পার্টির আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
শোকবইতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে চীনের দূত ও ভারতের হাইকমিশনারের উপস্থিতি, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।
বিএনপি গুলশানের অফিসে শোকবই খোলার পর, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি মনোযোগের সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
শোকবইতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের উপস্থিতি, বিশেষ করে পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, চীন, ওমান এবং ভারতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক গতিবিধিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে।
বিএনপি পক্ষ থেকে শোকবইতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে পার্টির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই শোকসন্ধ্যা, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক সমর্থনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে পার্টির কূটনৈতিক নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



