সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি পৌর চত্বরে পাঁচটি দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে অটোরিকশা বিতরণ করা হয়, যা ভিক্ষাবৃত্তি কমিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত একটি পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ৭০ হাজার টাকার মূল্যের অটোরিকশা, মৌসুমী খাবার এবং শীতকালীন কম্বল প্রদান করা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বয়ে আয়োজন করা হয়, যেখানে উভয় সংস্থার কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান করেন। এই যৌথ উদ্যোগটি ভিক্ষা-নির্ভর জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদী প্রবেশদ্বার তৈরি করার উদ্দেশ্য বহন করে।
অটোরিকশা, খাদ্যসামগ্রী এবং শীতবস্ত্রের সরবরাহের মূল লক্ষ্য হল দুঃস্থ পরিবারগুলোকে স্বনির্ভরতার পথে অগ্রসর করা, যাতে তারা আর ভিক্ষার উপর নির্ভর না করে নিজস্ব আয় উপার্জন করতে পারে। বিতরণকৃত অটোরিকশাগুলোকে স্থানীয় রিকশা চালকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে তারা দ্রুতই সেবা চালু করতে পারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং সরাসরি অটোরিকশা হাতে তুলে দিলেন। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, দারিদ্র্য ও ভিক্ষা সমস্যার সমাধানে এমন সরাসরি সহায়তা কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক নিরাপত্তা জালকে শক্তিশালী করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আল মামুন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন, যিনি বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচিত পরিবারগুলোকে পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সমজাতীয় প্রকল্পের জন্য একটি রেফারেন্স মডেল গড়ে তোলা হবে।
শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা খান জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সমন্বয়ে বিতরণকৃত সামগ্রীর তালিকা, গন্তব্য পরিবার এবং বিতরণ পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
অটোরিকশা ও অন্যান্য সামগ্রীর অর্থায়ন সমাজসেবা অধিদফতর এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তহবিল থেকে করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৭০ হাজার টাকার মূল্যের অটোরিকশা প্রদান করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের গড় মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া, মৌসুমী খাদ্যসামগ্রী এবং শীতবস্ত্রের সরবরাহ দুঃস্থ পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসনের জনমত গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের পূর্বে। বিরোধী দলগুলো পূর্বে দারিদ্র্য বিমোচনায় আরও বিস্তৃত কর্মসূচি দাবি করে আসছে, তবে বর্তমান পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা রয়েছে।
বিতরণকৃত অটোরিকশাগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সামাজিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দলকে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে চালকদের কর্মক্ষমতা, আয় এবং সেবা গুণমান পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে প্রোগ্রামের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত হয়।
প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অতিরিক্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া, অটোরিকশা চালকদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সহায়তা, আর্থিক সেবা এবং বাজার প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
ঝালকাঠি পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগটি দুঃস্থ পরিবারকে স্বনির্ভরতার পথে অগ্রসর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকল্পের মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।



