জাপানের ফুটবলের কিংবদন্তি কাজুয়োশি মিউরা, ৫৮ বছর বয়সে, তৃতীয় বিভাগে খেলা ফুকুশিমা ইউনাইটেডের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি তাকে পেশাদার ফুটবলে ৪১তম মৌসুমে নিয়ে যাবে এবং পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো জাপানের শীর্ষ তিন বিভাগে খেলতে সুযোগ দেবে।
মিউরা, যাকে ‘কিং কাজু’ নামেও ডাকা হয়, তার বয়স বাড়লেও ফুটবলের প্রতি তার উত্সাহ অপরিবর্তিত বলে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “বয়স বাড়লেও আমার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ একই রকম, এবং এই সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে দলকে সহায়তা করতে চাই।” এছাড়া তিনি দলের সঙ্গে ইতিহাস গড়ার ইচ্ছা জোর দিয়ে বলেছেন।
কাজুয়োশি মিউরার পেশাদার ক্যারিয়ার ১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের সান্তোস ক্লাবে শুরু হয়। এরপর তিনি ইউরোপে বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন, যার মধ্যে ইতালির জেনোয়া, ক্রোয়েশিয়ার ডিনামো জাগ্রেব এবং পর্তুগালের অলিভেইরেন্সে সময় কাটিয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি এনে দেয়।
২০২২ সাল থেকে মিউরা ইয়োকোহামা এফসি (J2) থেকে ধার নেওয়া চতুর্থ ঋণ চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। গত মৌসুমে তিনি আটলেটিকো সুজুকা (চতুর্থ স্তর) ক্লাবে সাতটি ম্যাচে মোট ৬৯ মিনিট খেলেছেন, তবে কোনো গোল করতে পারেননি এবং দলটি আঞ্চলিক লিগে নামিয়ে দেয়া হয়।
জাতীয় দলে মিউরার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ডেবিউ নেওয়ার পর তিনি ৮৯টি ম্যাচে ৫৫টি গোল করেন। তবে ১৯৯৮ সালের প্রথম বিশ্বকাপের জন্য দল থেকে বাদ পড়ার পর তিনি ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন।
ফুকুশিমা ইউনাইটেডের সঙ্গে এই ঋণ চুক্তি মিউরার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা, যেখানে তিনি জাপানের তৃতীয় বিভাগে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব নিয়ে আসবেন। ক্লাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিউরার উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরি করবে এবং দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই মৌসুমে ফুকুশিমা ইউনাইটেডের সূচি অনুযায়ী, মিউরা প্রথম ম্যাচে উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে দলটি লিগে উচ্চ স্থান অর্জনের লক্ষ্য রাখবে। তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার এবং অতীতের সাফল্যকে বিবেচনা করে, ভক্ত ও বিশ্লেষকরা তার ফিরে আসা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন।
কাজুয়োশি মিউরার এই নতুন অধ্যায় জাপানি ফুটবলে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে ৪১ বছর ধরে মাঠে থাকা একজন খেলোয়াড়ের উত্সাহ ও প্রতিশ্রুতি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।



