ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫-এ ফ্লোরিডার একটি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পশ্চিম তীরে উস্কানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং নীতি পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন। এই আহ্বানটি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের বার্তা পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
বৈঠকে ট্রাম্প এবং তার সহকর্মীরা ফিলিস্তিনের বেসামরিক জনগণের ওপর বসতি নির্মাতাদের আক্রমণ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে এই বিষয়গুলোই পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়িয়ে গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েলকে তার নীতি সমন্বয় করে ফিলিস্তিনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে পশ্চিম তীরে গতিপথ পরিবর্তন করা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক মেরামতের জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্পের মতে, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণের জন্য এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। তাই, তিনি নেতানিয়াহুকে তার সরকারের নীতি পুনর্বিবেচনা করে উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাকে গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাস হ্রাস পাবে। এই মন্তব্যটি ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের ধারাবাহিকতা বহু বছর ধরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের মূল বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়। বসতি সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হয় এবং স্থানীয় জনগণের জীবনের মান হ্রাস পায়। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।
২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে ইসরায়েলকে অধিগ্রহণকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বসতি স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বসতি কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এই বিরোধের ফলে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ট্রাম্পের এই আহ্বানকে ইসরায়েলি সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে বলে কোনো স্পষ্ট প্রকাশ না থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা ইতিমধ্যে ইসরায়েলি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও পশ্চিম তীরে বসতি কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের চাপ বজায় রেখেছে, এবং ট্রাম্পের বার্তা তাদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে, যদি ইসরায়েল তার নীতি সমন্বয় করে এবং বসতি সম্প্রসারণে থামা দেয়, তবে এটি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে সহায়তা করতে পারে এবং আব্রাহাম চুক্তির নতুন পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারে। অন্যদিকে, যদি উস্কানিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তবে গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা তীব্র হবে। তাই, ট্রাম্পের এই বার্তা অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি আহ্বান ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরে তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে এবং ফিলিস্তিনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাপ দিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ এবং গাজা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে ইসরায়েল এই আহ্বানকে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মূল দিক নির্ধারণ করবে।



