আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক বিভাগে নিযুক্ত মহাপরিচালক নূর আহমাদ নূর, দেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকাকালীন ঢাকা সফর করেন। সফরটি এক সপ্তাহব্যাপী চলেছে এবং এতে তিনি বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, পাশাপাশি কয়েকটি কওমি মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন।
নূর আহমাদ নূরের সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় উত্থাপিত হয়েছে যে তিনি সরকারিভাবে আমন্ত্রিত ছিলেন না, ফলে তাকে ‘ব্যক্তিগত’ সফর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
ডিসেম্বর ২১ রাত ১২টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নূর আহমাদ নূর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার প্রথম দিনের পরেই তিনি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি কওমি মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন, যেখানে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৫ ডিসেম্বর নূর আহমাদ নূর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক ও খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিব মাহফুজুল হকও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো পক্ষ মন্তব্য করতে ইচ্ছুক হননি।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ উল্লেখ করেন যে বৈঠকটি কোনো দলীয় আলোচনা নয়, বরং শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, শিক্ষক হিসেবে আমাদের আমিরের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে।” এই বক্তব্যের পরেও বৈঠকের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়নি।
নূর আহমাদ নূরের সফরের আগে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ সাতজন ইসলামপন্থী নেতা ও পণ্ডিত আফগানিস্তান সফর করেন। সেই সফরে তারা তালেবান সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তালেবান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বলে প্রকাশ পায়। বর্তমান সফরটি সেই সময়ের তিন মাসের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তালেবান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তার ঢাকা সফর দেশের কূটনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর রাশিয়া ছাড়া কোনো দেশ তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। নূর আহমাদ নূরের সফর এই অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সফরের সময় নূর আহমাদ নূর বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের কূটনৈতিক ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নীতিতে প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
সফরের শেষ দিনগুলোতে নূর আহমাদ নূর ঢাকা থেকে প্রস্থান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে তার পরবর্তী পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ভবিষ্যতে তালেবান সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



