বহুল প্রত্যাশার সঙ্গে ড্রিশ্যম সিরিজের তৃতীয় অংশের শ্যুটিং গোয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রধান চরিত্রে জয়দীপ আহলওয়াতের নতুন সংযোজনের সঙ্গে পুরো কাস্ট জানুয়ারি ৮, ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি শেষ পর্যন্ত গোয়ায় কাজ করবে।
গোয়ায় শ্যুটিং শুরু হবে জানুয়ারি ৮ তারিখে, এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি শেষ পর্যন্ত চলবে। এই সময়কালে চলচ্চিত্রের প্রধান দৃশ্যগুলো সমুদ্রতীরের পটভূমিতে ধারণ করা হবে, যা গল্পের নতুন মোড় যোগ করবে।
মুম্বাই শ্যুটিং শেষ করার পর দলটি গোয়ায় রওনা হয়েছে। গন্তব্য পরিবর্তনের মূল কারণ হল গোয়ায়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সমুদ্রের পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে গল্পের পটভূমি সমৃদ্ধ করা। গোয়ায়ের রৌদ্রোজ্জ্বল সমুদ্রতীর, সাদা বালির সৈকত এবং স্থানীয় সংস্কৃতি চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল টোনকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জয়দীপ আহলওয়াতের অংশগ্রহণ ড্রিশ্যমের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তার তীব্র অভিনয়শৈলী ও সূক্ষ্ম চরিত্রায়ণকে নিয়ে দর্শকরা নতুন উত্তেজনা অনুভব করবে। তিনি পূর্বে বহু বক্স অফিস হিট ছবিতে কাজ করেছেন এবং তার উপস্থিতি চলচ্চিত্রের আকর্ষণ বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ড্রিশ্যম ৩-এ মূল কাস্টের অন্যান্য সদস্যরাও গোয়ায়ের শ্যুটিংয়ে অংশ নেবে। প্রধান চরিত্রে অভিনয়কারী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা একসাথে গোয়ায়ের বিভিন্ন লোকেশন ব্যবহার করে দৃশ্যগুলো রেকর্ড করবে। শ্যুটিং চলাকালীন কাস্ট ও ক্রু সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গোয়ায়ের স্থানীয় প্রশাসন চলচ্চিত্র শ্যুটিংকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করেছে। স্থানীয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং পরিবহন ব্যবস্থা চলচ্চিত্র টিমের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করবে। গোয়ায়ের বাসিন্দাদেরও শ্যুটিংয়ের সময় কিছু অংশে রাস্তায় সাময়িক বন্ধের সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে তা যথাযথভাবে জানানো হবে।
শুটিংয়ের সময়কালে গোয়ায়ের প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকেও চলচ্চিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্থানীয় শিল্পী ও নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ছবির সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি বাড়াবে। এছাড়া গোয়ায়ের খাবার ও বাজারের দৃশ্যগুলোও গল্পের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রযোজক দল শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের জন্য মুম্বাইতে ফিরে যাবে। সম্পাদনা, সাউন্ড ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের কাজ মুম্বাইয়ের স্টুডিওতে সম্পন্ন হবে। চলচ্চিত্রের মুক্তি তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর প্রচারমূলক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
ড্রিশ্যম ৩-এ গল্পের মূল থিম ও কাহিনীর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, তবে গোয়ায়ের নতুন পটভূমি দিয়ে গল্পে নতুন মোড় যোগ হবে। দর্শকরা আশা করছেন যে গোয়ায়ের সমুদ্রতীরের পটভূমিতে তৈরি দৃশ্যগুলো পূর্বের অংশের তুলনায় ভিন্ন রঙে প্রকাশ পাবে।
শুটিং চলাকালীন কাস্ট ও ক্রু সদস্যদের জন্য গোয়ায়ের আবহাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়ায়ে তাপমাত্রা মাঝারি থেকে গরম হতে পারে, তাই শ্যুটিং শিডিউল অনুযায়ী সময়সূচি সমন্বয় করা হবে। এছাড়া বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় বিকল্প শ্যুটিং লোকেশনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গোয়ায়ের স্থানীয় মিডিয়া শ্যুটিংয়ের খবর দ্রুত ছড়িয়ে দিয়েছে এবং স্থানীয় জনগণও চলচ্চিত্রের শ্যুটিংকে নিয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেছে। কিছু স্থানীয় ব্যবসা শ্যুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ প্যাকেজ ও সেবা প্রদান করার পরিকল্পনা করেছে।
ড্রিশ্যম ৩-এ জয়দীপ আহলওয়াতের যোগদান ও গোয়ায়ের শ্যুটিং পরিকল্পনা চলচ্চিত্রের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া ও শ্যুটিং লোকেশন সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা দ্রুত জানানো হবে।
এই শ্যুটিং পরিকল্পনা গোয়ায়ের পর্যটন শিল্পের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গোয়ায়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক দর্শকের নজরে আসবে। ফলে গন্তব্যস্থল হিসেবে গোয়ায়ের জনপ্রিয়তা বাড়তে পারে।
ড্রিশ্যম ৩-র শ্যুটিং গোয়ায়ে এক মাসের জন্য চলবে, এবং পুরো কাস্টের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর চলচ্চিত্রের মুক্তি ও প্রচার পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য শেয়ার করা হবে।



