27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইল-ফাশেরকে অপরাধস্থল ঘোষণা, ইউএন দল প্রথমবার শহরে প্রবেশ

ইল-ফাশেরকে অপরাধস্থল ঘোষণা, ইউএন দল প্রথমবার শহরে প্রবেশ

ইল-ফাশের, যা দ্রুত সমর্থন বাহিনী (RSF) অক্টোবর ২৬ তারিখে দখল করে, সেখানে জাতিসংঘের একটি দল গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো প্রবেশের সুযোগ পায়। দলটি শহরকে “অপরাধস্থল” বলে বর্ণনা করেছে, যেখানে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার চিহ্ন দেখা গেছে।

ইল-ফাশেরের অবস্থা জানার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মীরা বহু সপ্তাহের আলোচনার পর শহরে পৌঁছায়। তারা লক্ষ্য করে যে, একসময় ঘনবসতিপূর্ণ ও বিশাল শরণার্থী জনসংখ্যা থাকা এই শহরে এখন মাত্র অল্প সংখ্যক মানুষই রয়ে গেছে। RSF কর্তৃক ১৮ মাসের অবরোধের পর শহর দখল করার পর ১ লক্ষের বেশি বাসিন্দা পালিয়ে গেছেন, এবং বেঁচে থাকা লোকজনের মতে জাতিগত ভিত্তিক গণহত্যা ও ব্যাপক গ্রেফতার হয়েছে।

জাতিসংঘের সুদান রেসিডেন্ট ও মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, দলের সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা শহরে ঘুরে দেখার সময় খুব কম মানুষই দেখেছেন। বেঁচে থাকা লোকজন শূন্য ভবনে বা প্লাস্টিক শিটের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন, এবং বাজারে মাত্র স্থানীয় উৎপাদিত সবজি বিক্রি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তোলা ছবিগুলোতে মানুষের মুখে ক্লান্তি, উদ্বেগ ও ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর দারফুরের উম বারু এলাকায় এই মাসে স্ক্রিন করা ৫০০ শিশুর মধ্যে ৫৩ শতাংশই তীব্র কুপোসে আক্রান্ত, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে এক ষষ্ঠাংশ শিশুরা গুরুতর তীব্র কুপোসে ভুগছে, যা সঠিক চিকিৎসা না পেলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাণঘাতী হতে পারে।

ডিসেম্বর মাসে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাবের প্রকাশিত প্রতিবেদনে RSF-এর মানবিক অপরাধের একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, গোষ্ঠীটি মানবদেহের অবশিষ্টাংশ গোপন করতে দাফন, দহন ও অপসারণের মাধ্যমে প্রমাণ ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, নভেম্বরের শেষের দিকে মানব অবশিষ্টাংশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বস্তুসমূহের ৭২ শতাংশ ছোট হয়ে গেছে, আর ৩৮ শতাংশ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়েছে।

সুদানের ডাক্তার নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, RSF দখলে শহরে ২০০ এর বেশি মানুষ, যার মধ্যে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত, নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং আইসিসি (ICC) এর সম্ভাব্য তদন্তের দাবি বাড়িয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আরব লীগও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং সুদান সরকারকে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্লেষক ইঙ্গিত করছেন, ইল-ফাশেরের বর্তমান অবস্থা সুদানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি নতুন পর্যায়ের সূচক। পূর্বের লুক্সোরের ও মিয়ানমারের মত সংঘাতের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এখানে মানবিক সাহায্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত হওয়া একই ধাঁচের প্যাটার্ন অনুসরণ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো এবং অপরাধের দায়ী ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্বে আনা।

ইউএন দল শহরে যে সীমিত সময় কাটিয়েছে, তাতে তারা স্থানীয় বাসিন্দা, শরণার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেছে। তারা জানিয়েছে, শহরের অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ, এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। বেঁচে থাকা মানুষজনের জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ত্বরিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে, সুদানের সরকার ও RSF উভয়েরই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন, অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রমাণ সংরক্ষণ করা অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

অবশেষে, ইল-ফাশেরের বর্তমান অবস্থা সুদানের মানবিক সংকটের একটি তীব্র উদাহরণ, যেখানে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ও মানবিক কষ্ট একসাথে দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা, কূটনৈতিক চাপ ও মানবিক সহায়তা একত্রে কাজ করলেই এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন সম্ভব হবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments