স্পেনের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বোরজা শহরের ৯৪ বছর বয়সী বাসিন্দা সিসিলিয়া গিমেনেজের মৃত্যু সম্প্রতি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি ২০১২ সালে এক শতাব্দী পুরনো যীশু চিত্রের অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে পরিচিতি লাভ করেন।
গিমেনেজের কাজটি ছিল স্যানকচুয়ারি অফ মের্সি গির্জার ভিতরে সংরক্ষিত ‘এক্কে হোমো’ (ল্যাটিনে ‘দেখো মানুষ’) শিরোনামের ফ্রেসকো, যা ১৯শ শতাব্দীর চিত্রশিল্পী এলিয়াস গার্সিয়া মার্টিনেজের রচনা। গির্জাটি জারাজা শহরের কাছাকাছি অবস্থিত এবং শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিল্পের অংশ হিসেবে রক্ষিত ছিল।
২০১২ সালে গিমেনেজ, তখন ৮১ বছর বয়সী, গির্জার পুরনো রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে নিজে হাতে ফ্রেসকোটি পুনরায় রঙ করার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় পুরোহিতের অনুমতি পেয়ে তিনি মূল চিত্রের ওপর সরাসরি রঙ প্রয়োগ করেন। ফলাফলটি মূল চিত্রের মুখের রূপান্তর ঘটিয়ে একটি অস্বাভাবিক, লোমশ মাথা সহ চিত্র তৈরি করে, যা দ্রুতই ‘মাঙ্কি ক্রাইস্ট’ নামে ইন্টারনেট মিমে পরিণত হয়।
গিমেনেজের এই প্রচেষ্টা অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং বোরজা শহরের নাম বিশ্ব মানচিত্রে উঠে আসে। পূর্বে বছরে প্রায় ৫,০০০ দর্শনার্থীই যেতেন, তবে মিমের ছড়িয়ে পড়ার পর ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ৪০,০০০ এর বেশি বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় ব্যবসা ও হোটেলগুলো এই আকস্মিক পর্যটন বুম থেকে উপকৃত হয়।
পর্যটক প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে শহরটি দাতব্য কাজে প্রায় ৫০,০০০ ইউরো তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই অর্থ স্থানীয় সামাজিক প্রকল্প ও গির্জার রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে গিমেনেজের কাজটি সুরক্ষিত কাচের শিল্ডের পেছনে সংরক্ষিত, এবং প্রতি বছর প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ দর্শনার্থী এই অনন্য শিল্পকর্ম দেখতে আসেন।
প্রতিকূল প্রতিক্রিয়ার পরেও গিমেনেজ স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে নিজের চিত্রকর্মের প্রদর্শনী আয়োজন করেন। তিনি ২৮টি নিজস্ব চিত্রের সংগ্রহ প্রকাশ করেন, যা তার শিল্পের প্রতি অটুট ভালোবাসা ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করে। এই প্রদর্শনীটি তাকে নতুন একটি সুনাম এনে দেয় এবং তার শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি বাড়ায়।
বোরজা শহরের মেয়র এদুয়ার্দো আরিলা ফেসবুকে গিমেনেজের মৃত্যুর খবর জানিয়ে তার শিল্পের প্রতি শৈশব থেকে থাকা উত্সাহের প্রশংসা করেন। তিনি গিমেনেজকে ‘চিত্রকলা প্রেমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে, তার অনন্য প্রচেষ্টাকে শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
সিসিলিয়া গিমেনেজের জীবন ও কাজ এখন বোরজা শহরের ইতিহাসে এক অপ্রত্যাশিত মোড় হিসেবে রয়ে গেছে। তার অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তনটি যদিও সমালোচনার মুখে পড়ে, তবুও তা শহরের পর্যটন ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে গিমেনেজের গল্পটি শিল্পের সীমানা, জনসাধারণের অংশগ্রহণ এবং অনলাইন সংস্কৃতির শক্তি নিয়ে আলোচনা করার একটি উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।



