27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের প্রেসিডেন্ট প্রতিবাদকারীদের ‘বৈধ দাবি’ শোনার আহ্বান জানালেন

ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রতিবাদকারীদের ‘বৈধ দাবি’ শোনার আহ্বান জানালেন

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার টুইটারে দেশের মুদ্রা পতনের ফলে তীব্র অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়া তেহরানের নাগরিকদের দাবি শোনার নির্দেশ দিলেন। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের জীবিকা রক্ষা তার দৈনন্দিন অগ্রাধিকার, এবং অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়কে প্রতিবাদকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে বৈধ চাহিদা জানার দায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পরই সরকারী সূত্রে জানানো হয় যে, মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা সংস্কারের মৌলিক পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যে এজেন্ডায় রয়েছে, যাতে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা যায়।

প্রতিবাদগুলো গত রবিবার থেকে তেহরানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় শুরু হয়। রিয়াল ডলারের তুলনায় রেকর্ড নিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ায় মুদ্রার অবমূল্যায়ন বাড়তে থাকে, যা সরাসরি বাজারের দাম ও মানুষের জীবনের মানে প্রভাব ফেলছে।

শহরের জোমহুরি এলাকায় অবস্থিত দুইটি প্রধান টেক ও মোবাইল ফোন শপিং সেন্টারের কাছাকাছি দোকানদাররা, পাশাপাশি গ্র্যান্ড বাজারের আশেপাশের বিক্রেতারা, রবিবারের সন্ধ্যায় তাদের ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে।

প্রতিবাদকারীরা একত্রে চিৎকার করে ‘ডরো না, আমরা একসাথে’ বলে শত্রুতা দূর করার সংকল্প প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ণ সজ্জায় গ্যাস লঞ্চার ব্যবহার করে ভিড়কে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে।

ইরানের রাষ্ট্রমাধ্যম এই প্রতিবাদকে রিয়ালের অবিরাম অবমূল্যায়নের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত করেছে, এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ধর্মীয় শাসনের প্রতি বিস্তৃত বিরোধের সঙ্গে তুলনা করা থেকে বিরত রেখেছে।

প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীর কাছে নির্দেশ দেন, যাতে তিনি প্রতিবাদকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে সরকারী পদক্ষেপের দ্রুততা নিশ্চিত করেন।

ইরানের রিয়াল সাম্প্রতিক সপ্তাহে দ্রুত গড়িয়ে নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েল সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রিয়ালের অবমূল্যায়ন কেবল মুদ্রা বাজারকে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রভাবিত করছে; আমদানি পণ্যের দাম বাড়ছে, এবং মৌলিক পণ্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, রিয়ালের পতনের ফলে তাদের মুনাফা হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মচারীদের বেতন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি তাদেরকে কর্মসংস্থান রক্ষা এবং পরিবারিক জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারী হস্তক্ষেপের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে রিয়াল স্থিতিশীল করার জন্য আর্থিক নীতি সংশোধন, মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংকিং সেক্টরে কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সময় এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন হবে।

প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তিনি জনগণের উদ্বেগ শোনার মাধ্যমে শাসনের বৈধতা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা কমাতে চেয়েছেন।

অবশ্যই, নিরাপত্তা বাহিনীর গ্যাস ব্যবহার ও প্রতিবাদ দমনকে নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও মানবাধিকার রক্ষার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চাপ দিচ্ছেন।

পরবর্তী দিনগুলোতে সরকার কীভাবে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংলাপ চালাবে এবং রিয়ালের পতনের মোকাবিলায় কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments