রিপন মন্ডল, ২২ বছর বয়সী দ্রুতগতি পেসার, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপরীতে খেলা শেষ করে মাত্র ১৩ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। এই পারফরম্যান্স তাকে বিপিএল-এ সর্বোচ্চ বোলিং পারফরম্যান্সের শিরোপা এনে দেয় এবং জাতীয় দলের দরজা খুলে দেওয়ার আশায় তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
ম্যাচের আগে হালকা মেজাজে প্রশ্ন করা হয়, “বোনাস পেয়েছেন?” রিপন হেসে উত্তর দেন, “ড্রেসিং রুমে গিয়ে বোনাসের কথা শোনাবো।” তার এই মজার মন্তব্যের পরেও তিনি জানিয়েছেন, আর্থিক বোনাসের চেয়ে বড় স্বপ্ন তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে।
গত মাসে কাতারে অনুষ্ঠিত রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের সময় তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ১১টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষ শিকারী হিসেবে উজ্জ্বল ছিলেন। এই পারফরম্যান্স তাকে ‘ইয়র্কার মেশিন’ হিসেবে পরিচিত করায়, কারণ তিনি ধারাবাহিকভাবে দ্রুত ইয়র্কার দিয়ে ব্যাটসম্যানকে চ্যালেঞ্জ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তিনি সফল বোলার হিসেবে নিজের ছাপ রেখে গেছেন, যেখানে তার বোলিং দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছেন, তবে সেসব ম্যাচে তিনি ২০২৩ এশিয়ান গেমসের অংশ ছিলেন, যা জাতীয় দলের অধীনে নয়।
বিপিএল-এ তার পূর্বের তিন মৌসুমে ১১টি ম্যাচে মোট ১০টি উইকেট নেয়া সত্ত্বেও, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপরীতে এই পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারের সেরা বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে রাজশাহীর পেসার বিনুরা ফার্নান্দো, তানজিম হাসান এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইনের সঙ্গে তিনি দলে ছিলেন, তবে তৃতীয় ম্যাচে সাকলাইনের পরিবর্তে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়।
ম্যাচের পর রিপন প্রকাশ করেন, “বিপিএল আমার জন্য বড় মঞ্চ, যদি ভালো পারফর্ম করি তবে জাতীয় দলের সুযোগ আসবে।” তিনি যোগ করেন, “সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছি, যদি আসে তবে লুফে নেব।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত।
রিপনের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দেখায়, তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন, যদিও সেগুলো এশিয়ান গেমসের ম্যাচ। বাস্তবে, তিনি একবারই জাতীয় দলের দলে সুযোগ পেয়েছেন, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট থেকে দেশে ফিরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, “জাতীয় দলের জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করছি।” এই কথায় তার লক্ষ্য স্পষ্ট, তিনি বিপিএল-এ পারফরম্যান্সকে জাতীয় দলের দরজা খুলে দেওয়ার সোপান হিসেবে দেখছেন।
বিপিএল-এ ম্যাচ-সেরা বোলার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “বিপিএল আমার জন্য বড় মঞ্চ, এখানে ভালো পারফর্ম করলে জাতীয় দলের সুযোগ আসবে।” তার এই দৃঢ়সংকল্প তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে পূর্বে রিপনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি নিজের ভূমিকা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। এই নির্দেশনা তাকে মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে সহায়তা করেছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই মৌসুমে রিপনের পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে, বিশেষ করে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে তার চারটি উইকেটের মাধ্যমে। তার বোলিং গতি, সঠিক লাইন এবং দৈর্ঘ্য তাকে ব্যাটসম্যানের জন্য কঠিন করে তুলেছে।
পরবর্তী ম্যাচে রিপন আবারও দলের মূল বোলার হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন, যা তার ধারাবাহিকতা এবং উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তার পারফরম্যান্স যদি এই রকমই থাকে, তবে জাতীয় দলের দায়িত্বে তাকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বাড়বে।



