গণেশ্বরপুরে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বিকাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা ও কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদমূলক সমাবেশ শুরু করেন।
সকাল আটটায় অর্ধ-ঘণ্টা আগে একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষের দিকে, প্রায় নয়টায় ভোট স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোকাবহ পরিবেশ উল্লেখ করা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের মতে, শোকের মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মানসিক শান্তি রক্ষার জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত করা যথাযথ বলে গণ্য করা হয়েছে। ভোটের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য জানাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শীঘ্রই একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সিদ্ধান্তের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’ ভাস্কর্য চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান পথ ধরে প্রশাসনিক ভবনের দিকে অগ্রসর হয়।
প্রশাসনিক ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ভবনের প্রতিটি দরজায় তালা লাগানো হয়। শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ সিদ্ধান্ত’ বলে চিহ্নিত করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়।
‘মানি না, মানব না, অবৈধ সিদ্ধান্ত মানব না’ ও ‘এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়’ মতো স্লোগান শোনার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু শিক্ষার্থী উপাচার্যকে তার অফিসে আটকে রাখে, ফলে ভিসি অফিসে তালা লাগিয়ে তাকে প্রবেশ থেকে বাধা দেয়া হয়।
উপাচার্যকে তার অফিসে আটকে রাখার সময় শিক্ষার্থীরা তার দরজা বন্ধ করে তালা লাগিয়ে রাখে, ফলে তিনি অফিসের বাইরে থেকে প্রবেশ করতে পারেন না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পুনরায় জোরদার করে, ভোটের পুনঃনির্ধারণ ও শোকের সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা চায়।
প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত গার্ড ও ক্যামেরা স্থাপন করে। একই সঙ্গে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়সূচি নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বজায় রেখে যথাসম্ভব তথ্য সংগ্রহ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার দিকে নজর রাখা। এভাবে তারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে পারে।



