চাঁপাইনবাবগঞ্জের এলজিইডি ভবনের কনফারেন্স রুমে সোমবার সকালেই দুই দিনব্যাপী শিশু সাংবাদিকতার কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীতের সুরে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর ১৮ জন তরুণ শিশুকে প্রথম দিনের অংশগ্রহণকারীরূপে স্বাগত জানানো হয়। কর্মশালার মূল লক্ষ্য হল শিশুরা কীভাবে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প তৈরি করতে পারে তা শেখানো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন। তিনি কর্মশালার থিম “শিশুর চোখে শিশুর গল্প” উল্লেখ করে, শিশুরা যদি নিজের দৃষ্টিতে সমাজের নানা দিক তুলে ধরতে পারে তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জোর দেন।
এই কর্মশালার আয়োজন ইউনিসেফ এবং হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যৌথ উদ্যোগে করা হয়েছে। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশে শিশু সাংবাদিকতার প্রথম বাংলা সাইট হিসেবে পরিচিত, যা তরুণদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে। উভয় সংস্থার সমন্বয়ে শিশুরা লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, ভিডিও এডিটিং এবং সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারের মৌলিক দক্ষতা অর্জন করবে।
উদ্বোধনী সেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা তত্ত্বাবধায়ক এবং হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি আবুল হায়াত শাহীন উপস্থিত ছিলেন। তিনি কর্মশালার গুরুত্ব তুলে ধরে, শিশুরা যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পায় তবে তারা দেশের সংবাদ পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।
প্রথম দিনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিশুরা দলবদ্ধভাবে সংবাদ সংগ্রহ, শিরোনাম নির্ধারণ এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন রচনা করার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। প্রশিক্ষকরা বাস্তব উদাহরণ ব্যবহার করে কীভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া, তথ্য যাচাই করা এবং পাঠকের জন্য সহজবোধ্য ভাষা গঠন করা যায় তা দেখিয়েছেন। এছাড়া, শিশুদের জন্য নিরাপদ অনলাইন আচরণ এবং গোপনীয়তা রক্ষার নিয়মও আলোচনা করা হয়েছে।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনটি আরও গভীর প্রশিক্ষণ সেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, যেখানে ভিডিও রিপোর্টিং, অডিও রেকর্ডিং এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশের কৌশল শেখানো হবে। অংশগ্রহণকারী শিশুরা তাদের নিজস্ব গল্পের ধারণা নিয়ে দলগত আলোচনা করবে এবং প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।
আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “এই কর্মশালা তোমাদের সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। আমি আশা করি তোমরা মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।” তিনি শিশুরা যদি এই সুযোগটি সঠিকভাবে ব্যবহার করে তবে তারা স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ তৈরি করতে পারবে বলে আশাব্যঞ্জক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
কর্মশালার সমাপ্তির পর অংশগ্রহণকারী শিশুরা হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাধ্যমে তাদের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের সুযোগ পাবে। এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে পাঠক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে পরিমার্জন করা হবে, যা তাদের সাংবাদিকতা দক্ষতা আরও উন্নত করবে।
শিশু সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন সমস্যার প্রতি সংবেদনশীলতা গড়ে তোলার মাধ্যমও। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিশুরা তাদের চারপাশের পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে নিজের দৃষ্টিতে তুলে ধরতে শিখবে, যা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
শিশুরা যদি নিজের গল্প লিখতে চান, তবে প্রথমে তাদের আশেপাশের কোনো ঘটনা বা বিষয় নির্বাচন করে তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত। এরপর সংক্ষিপ্ত শিরোনাম তৈরি করে মূল বিষয়বস্তুকে সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত, ছবি বা ভিডিও যোগ করে প্রতিবেদনকে আরও আকর্ষণীয় করা যায়। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে শিশুরা নিজেরা ছোটখাটো সংবাদ তৈরি করে স্থানীয় মিডিয়াতে প্রকাশের সুযোগ পাবে।
শিশু সাংবাদিকতার এই ধরনের প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালা শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শহর ও গ্রামে এধরনের উদ্যোগ চালু হলে, তরুণ প্রজন্মের মিডিয়া সাক্ষরতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা দেশের সংবাদ পরিবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে গড়ে উঠবে।



