20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকগাজা শিশুর যুদ্ধের আঘাত: ১১ বছর বয়সী আবদেলরহমানের গল্প

গাজা শিশুর যুদ্ধের আঘাত: ১১ বছর বয়সী আবদেলরহমানের গল্প

গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষের মাঝখানে ১১ বছর বয়সী আবদেলরহমানের জীবন ধ্বংসাত্মকভাবে বদলে গিয়েছে। তার বাবা প্রথমই ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত হন, আর পরিবারের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়ে তিনি ও তার মা আসমা আল-নাশাশকে শোকের অন্ধকারে ফেলেছিল। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে নুসেইরাতের একটি স্কুলে আরেকটি বোমা আঘাত হানে, যেখানে আবদেলরহমান গুরুতরভাবে আহত হয়ে তার এক পা কেটে ফেলতে হয়।

আহতির পর তার মানসিক অবস্থা দ্রুত অবনতি শুরু করে; ঘন ঘন চুল টেনে নিজেকে আঘাত করা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি দেখা দেয়। মা আসমা বর্ণনা করেন, তার ছেলে এখন একা বসে থাকে, অন্য শিশুরা যখন খেলতে যায় তখন সে যেন বিষণ্নতায় ডুবে থাকে। মে ২০২৫-এ জর্ডানের একটি হাসপাতালে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময়, সে নিঃশব্দে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত দেখায় এবং গাজার দিকে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যদিও তা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

আবদেলরহমানের মতো শিশুরা গাজার যুদ্ধের ফলে চিকিৎসা সেবা পেতে জর্ডানে স্থানান্তরিত হয়েছে; বর্তমানে ডজনখানেক শিশুকে জর্ডান সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমর্থন করে চিকিৎসা দিচ্ছে। এই শিশুরা শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমার শিকার, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনকে প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, গাজার শিশুদের উপর সংঘাতের প্রভাব একটি মানবিক সংকটের রূপ নেয় এবং তা অবিলম্বে সমাধান করা দরকার।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বহু বিশ্লেষক ও কূটনীতিক গাজার শিশুদের সুরক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “যুদ্ধের শিকার শিশুরা শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক আঘাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি ভোগ করে; তাই মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রোগ্রামকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।” যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা গাজার মানবিক অবস্থা উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত তহবিল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আবদেলরহমানের কাহিনী একক ঘটনা নয়; এটি গাজার দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের একটি চিত্র। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি ইরিট্রিয়ার একটি পাহাড়ে ইথিওপিয়ার ন্যাপাল্ম বোমা আঘাতের শিকার আদোনাই মিকায়েল, আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে আইআরএ’র বোমা হামলায় পিতার কফিন অনুসরণ করা এক শিশুর দুঃখ, এবং সিয়েরা লিয়নের গৃহযুদ্ধের সময় হাতে হাত কেটে নেওয়া এক মেয়ের কাহিনী একই রকম মানবিক দুঃখের উদাহরণ। রুয়ান্ডার গেনোসাইডের সময় একটি শিশুর কান্না, যখন তাকে অন্য শিশুর মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়, তা এইসব কাহিনীর সঙ্গে সমান্তরাল।

এইসব ঘটনার পটভূমিতে আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সংস্থা (UNICEF) গাজার শিশুদের জন্য “অবিলম্বে নিরাপদ অঞ্চল” স্থাপন এবং “শিশু-সুরক্ষা গ্যারান্টি” নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গাজার সংঘাতের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ্লোম্যাটিক নেটওয়ার্ক গাজা ও ইসরায়েল উভয়ের সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুরা আবারও বোমা আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

আবদেলরহমানের মা আসমা, যিনি ২৯ বছর বয়সী, তার মুখে এখনও শোকের ছাপ রয়ে গেছে, তবে তার সন্তানকে জীবিত রাখার জন্য তিনি সবরকম সহায়তা গ্রহণে প্রস্তুত। তার কথায় স্পষ্ট যে, “যদি আমরা গাজায় ফিরে না যাই, তবে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায় থাকবে?” এই প্রশ্নটি গাজার বহু পরিবারকে একইভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

গাজার শিশুদের উপর সংঘাতের প্রভাবের পরিসংখ্যান দেখায়, ২০২৩-২০২৪ সময়কালে গাজা অঞ্চলে ১,৫০০-এর বেশি শিশু শারীরিক আঘাত পেয়েছে, যার মধ্যে ৪৫০ শিশুরা গুরুতর আঘাতের শিকার, এবং ১২০ শিশুরা অঙ্গহীনতা বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এই সংখ্যা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।

অবশেষে, আবদেলরহমানের গল্প গাজার শিশুদের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে শিশুরা কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হল এই শিশুরা যেন পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন পায়, তা নিশ্চিত করা। গাজার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আজকের মানবিক পদক্ষেপের ওপর, যা না হলে আরও বহু শিশুর জীবন ধ্বংসের পথে অগ্রসর হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments