যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার একটি ডকে আক্রমণ ঘটার কথা জানিয়ে গেছেন, যেখানে তিনি বলেন ড্রাগ জাহাজগুলো লোড করা হতো। এই আক্রমণটি ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থলভিত্তিক হামলা, যা চার মাস আগে শুরু হওয়া প্রেসার ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি লক্ষ্যকে আঘাত করে, যেখানে অন্তত দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
ট্রাম্প শুক্রবার একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলার ডকে ঘটিত বিস্ফোরণ সম্পর্কে মন্তব্য করেন, এবং সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন যুক্তরাষ্ট্র সেই স্থানে আক্রমণ করেছে যেখানে ড্রাগ জাহাজগুলো লোড করা হতো। তিনি উল্লেখ করেন, “ডকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেখানে ড্রাগে পূর্ণ জাহাজগুলো লোড করা হতো, তাই আমরা সেই সব জাহাজ এবং এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছি।”
প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন না যে আক্রমণটি সামরিক বাহিনী, সিআইএ বা অন্য কোনো সংস্থা পরিচালনা করেছে, এবং নির্দিষ্ট অবস্থানও প্রকাশ করেন না। তিনি কেবল উল্লেখ করেন, “আমি জানি কে করেছে, তবে আমি তা প্রকাশ করতে চাই না।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলার সরকার থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, এবং দেশীয় কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে আক্রমণ নিশ্চিত করা হয়নি।
ট্রাম্পের এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ, যা প্রেসিডেন্টের মতে ড্রাগ পাচারকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। ক্যারাকাস সরকার ড্রাগ ট্রেডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংযোগ অস্বীকার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করে দেশের বিশাল তেল রিজার্ভ দখল করার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল রিজার্ভের অধিকারী, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের পদক্ষেপকে তেল সম্পদে প্রবেশের কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্বে ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলে ড্রাগ জাহাজের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, তবে এই ডকে আক্রমণ প্রথমবারের মতো স্থলভিত্তিক লক্ষ্যকে নির্দেশ করে।
প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাতপ্রাপ্ত জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র অনুযায়ী অবৈধ ড্রাগ পরিবহনকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, এবং আক্রমণের ফলে অন্তত দুইজনের প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ড্রাগ পাচার দমনমূলক কার্যক্রমকে বাড়িয়ে তুলবে বলে ইঙ্গিত দেয়।
ভেনেজুয়েলার সরকার এখনও এই আক্রমণকে স্বীকার করেনি, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটির স্বতন্ত্র যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে তেল ও ড্রাগ বিষয়ক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্থলভিত্তিক আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে একটি নতুন দিক নির্দেশ করে, যা পূর্বে আন্তর্জাতিক জলে সীমাবদ্ধ ছিল। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা সীমান্তে আরও সরাসরি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
অধিকন্তু, ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয়তা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে, যা আক্রমণের প্রকৃত দায়িত্বশীল সংস্থার পরিচয় গোপন রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের গোপনীয়তা আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসিত দেশের ভূখণ্ডে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে।
ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তেল ও ড্রাগ সংক্রান্ত বিরোধের ফলে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই ঘটনাগুলি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে তা গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ভেনেজুয়েলায় ডকে আক্রমণ এবং প্রশান্ত মহাসাগরে ড্রাগ জাহাজে আঘাতের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, তবে উভয় ঘটনার স্বতন্ত্র যাচাই এখনও বাকি। ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, তেল ও ড্রাগ নীতি, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব পড়বে তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।



