মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া‑ইংল্যান্ডের চতুর্থ টেস্টে পিচের প্রস্তুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মন্তব্যে দ্বিমুখীতা দেখা দিয়েছে। দুই দিনেই ম্যাচ শেষ হয়ে ৩৬টি উইকেট নেমে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। পিচে ১০ মিলিমিটার ঘাস রেখে দেওয়া হয়েছিল, যা দ্রুতগতি পেসারদের জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা তৈরি করেছিল, আর ব্যাটসম্যানদের জন্য শটের বিকল্প সীমিত করে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। প্রথম দিনে ২০টি উইকেট নেমে, পরের দিন আরও ১৬টি উইকেট নেমে মোট ৩৬টি উইকেটের পতন ঘটেছিল।
এই ম্যাচের পর্যালোচনায়, প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান আকাশ চোপড়া তার ইউটিউব চ্যানেলে উল্লেখ করেন যে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া পিচকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন দুই‑দিনের টেস্ট স্বাভাবিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি একই পরিস্থিতি ভারতে ঘটে তবে একই ধরনের মন্তব্য হতো কি না।
চোপড়া ২০২১ সালের আহমেদাবাদে ভারত‑ইংল্যান্ড টেস্টের উদাহরণ তুলে বলেন, যেখানে দুই দিনের মধ্যে ম্যাচ শেষ হওয়ায় বিবিসি “টেস্ট ক্রিকেটের মৃত্যু” শিরোনাম দিয়েছিল। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া পিচকে খারাপ না বলে, দুই‑দিনের টেস্টকে প্রশংসা করেছিল। তিনি এটিকে স্পষ্ট দ্বিচারিতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আশেজের প্রথম টেস্ট পার্থে ২০২১‑২২ মৌসুমে দুই দিনে শেষ হয়েছিল। ICC পিচকে “খুব ভালো” হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল এবং বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষকরা ব্যাটসম্যানের কৌশলকে দোষারোপ করেছিল। চোপড়া বলেন, পার্থের পিচের প্রশংসা ও মেলবোর্নের পিচের সমালোচনা একই সময়ে একসাথে ঘটেছে, যদিও উভয়ই দুই‑দিনের ম্যাচে শেষ হয়েছে।
মেলবোর্নের টেস্টে কোনো স্পিনার একটিও ওভার না দিয়ে ম্যাচ শেষ হয়েছে। চোপড়া এই বিষয়টি তুলে বলেন, যদি একই ঘটনা ভারত বা উপমহাদেশের কোনো টেস্টে ঘটে এবং ফাস্ট বোলিংয়ে কোনো ওভার না হয়, তবে তা তৎক্ষণাৎ মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় পিচে স্পিনের ভূমিকা বেশি, তাই মিডিয়া দ্রুতই পিচের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
মেলবোর্নের ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো পিচকে “অসন্তোষজনক” রেটিং দেন এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্টও প্রদান করেন। এই রেটিং পিচের প্রস্তুতি ও ব্যাটসম্যানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
আকাশ চোপড়া শেষ পর্যন্ত বলছেন, পিচের প্রস্তুতি ও মিডিয়ার মন্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে পিচের মূল্যায়নে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে, যাতে কোনো দলই অযথা সুবিধা বা অসুবিধার শিকার না হয়।
পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজের শেষ টেস্টে একই পিচে খেলা হবে, যেখানে পিচের প্রস্তুতি ও মিডিয়ার মন্তব্যের ওপর নজর থাকবে। উভয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা পিচের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই বিতর্কের মূল বিষয় হল, পিচের গুণগত মানের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক মিডিয়া কীভাবে সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পিচের প্রস্তুতি, মিডিয়ার মন্তব্য এবং ICC রেটিংয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।



