গায়িকা চ্যাপেল রোয়ান, গ্র্যামি বিজয়ী, ব্রিজিট বার্ডোর মৃত্যুর খবর জানার পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক সংক্ষিপ্ত সমবেদনা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি বার্ডোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে “শান্তি পাবে” বলে শেষ করেন। তবে, একই দিনই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং পরের দিন নতুন পোস্টে তার মনোভাব প্রকাশ করেন।
নতুন পোস্টে রোয়ান প্রকাশ করেন যে তিনি বার্ডোর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন এবং তা জানার পর তিনি তার সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বার্ডোর মতামত তার প্রত্যাশার বিপরীত এবং তিনি তা গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
রোয়ান ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার গানের “রেড ওয়াইন সুপারনোভা”তে বার্ডোর নাম উল্লেখ করেন। গানের শুরুর লাইনগুলোতে তিনি বার্ডোর প্রতি একটি রোমান্টিক ইঙ্গিত দেন, যেখানে তিনি তাকে “প্লেবয়” বলে বর্ণনা করেন এবং তার থেকে শিখা কিছু নতুন জিনিসের কথা বলেন। এই উল্লেখটি তার গানের ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ব্রিজিট বার্ডো, ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণকারী ফরাসি অভিনেত্রী, তার ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৫০‑এর দশকে। তিনি “অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান”, “দ্য ট্রুথ অ্যান্ড কন্টেম্পট” সহ বহু চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে, ৩৯ বছর বয়সে, তিনি অভিনয় ত্যাগ করে প্রাণী অধিকার কর্মে মনোনিবেশ করেন।
অভিনয় ত্যাগের পরেও বার্ডো জনমত গঠনে সক্রিয় ছিলেন। সময়ের সাথে সাথে তিনি ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক মঞ্চে উগ্র ডান্সের দিকে ঝুঁকেন। তিনি জাতীয় ফ্রন্টের প্রার্থীদের, বিশেষ করে ক্যাথরিন মেগ্রেট ও মেরিন লেপেনকে সমর্থন করেন। তার এই সমর্থন তাকে ফার-রাইটের সঙ্গে যুক্ত করে।
বার্ডো ফ্রান্সের “ইসলামিকরণ” নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সমালোচনা করেন। তিনি অভিবাসী, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রবেশকে দেশের সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার এই মন্তব্যগুলোকে অনেক বিশ্লেষক রেসিয়াল হেটেরোডি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তার প্রকাশ্য মন্তব্যের পাশাপাশি, বার্ডো তার বইতে সমকামী ও পেডোফাইলদের তুলনা করে বিতর্ক উস্কে দেন। এই তুলনা তাকে জাতিগত ও যৌন বৈচিত্র্যের বিরোধী হিসেবে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। তার এই রেকর্ডকে মানবাধিকার সংস্থা সমালোচনা করেছে।
২০১৮ সালে, #MeToo আন্দোলনের উত্থানকালে, বার্ডো এই আন্দোলনের বিরোধিতা করেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন যে তিনি এমন মন্তব্য পছন্দ করেন যা তাকে সুন্দর বা আকর্ষণীয় বলে প্রশংসা করে। এই মন্তব্যকে নারীর অধিকার সমর্থকরা অনুপযুক্ত ও পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করেন।
চ্যাপেল রোয়ান তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে স্পষ্টভাবে বলেন যে তিনি বার্ডোর উগ্র রাজনৈতিক মতামতকে সমর্থন করেন না এবং তার এই প্রকাশে তিনি তার ভক্তদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি বার্ডোর শিল্পী হিসেবে অবদানকে স্বীকার করেন, তবে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচ্ছিন্ন।
রোয়ানের এই পদক্ষেপটি সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনলাইন ব্যবহারকারীরা তার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে কিছু সমালোচকও উল্লেখ করেন যে তিনি প্রথমে বার্ডোর রাজনৈতিক দিকটি উপেক্ষা করেছেন।
বার্ডোর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তার চলচ্চিত্রের শিল্পমূল্য ও প্রাণী অধিকার কর্মের স্বীকৃতি রয়েছে, তবে তার রাজনৈতিক মতামত ও প্রকাশ্য মন্তব্যগুলোকে অনেকেই সমালোচনা করে চলেছেন।
এই ঘটনাটি দেখায় কীভাবে শিল্পী ও পাবলিক ফিগারদের ব্যক্তিগত মতামত তাদের পেশাগত সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে। রোয়ানের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্বচ্ছতা তার ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস বজায় রাখতে সহায়তা করেছে, যদিও বিষয়টি এখনও সামাজিক মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়।



