জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এর তিনজন উচ্চপদস্থ নেতা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা থেকে সরে গেছেন। এনডিএফ, যা জাতীয় পার্টির একটি গোষ্ঠী, ২০২৪ সালের শেষের দিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে অনার হোসেন মানজু, রুহুল আমিন হাওলাদার এবং কাজী ফিরোজ রশিদ প্রত্যাশিত সময়ে তাদের নামপত্র দাখিল করেননি।
অনার হোসেন মানজু, জাতীয় পার্টির একটি শাখার চেয়ারম্যান, পিরোজপুর-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে তিনি স্বাস্থ্যের অবনতি উল্লেখ করে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। রুহুল আমিন হাওলাদার, শাখার সেক্রেটারি জেনারেল এবং এনডিএফের মুখপাত্র, বরিশাল-১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নামপত্র সংগ্রহ করছিলেন। কাজী ফিরোজ রশিদ, শাখার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, ঢাকা-১০ ও গোপালগঞ্জ-৩ দুইটি আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ছিলেন।
তাদের প্রত্যেকেই নির্বাচনী কমিশনের নির্ধারিত সময়ের আগে নামপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করলেও, শেষ মুহূর্তে দাখিল না করার সিদ্ধান্ত নেন। নামপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সম্পন্ন হয়, তবে দাখিল না করা মানে প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত না হওয়া। এই পদক্ষেপের ফলে এনডিএফের প্রার্থী তালিকায় উল্লেখযোগ্য ফাঁক দেখা দেয়।
মানজুর স্বাস্থ্যের অবস্থা তিনি নিজেরই উল্লেখ করেন, যা তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। তিনি পিরোজপুর-২ আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পূর্বে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও, স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ তাকে পদত্যাগের দিকে ধাবিত করেছে। হাওলাদার ও রশিদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশিত হয়নি, তবে নামপত্র দাখিল না করার সিদ্ধান্তের পেছনে কৌশলগত বিবেচনা থাকতে পারে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এই গোষ্ঠী ১৮টি পার্টির জোটের অংশ, যা নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থী উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছিল। ২৩ ডিসেম্বর জোটের পক্ষ থেকে ১২৫টি আসনের জন্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়, তবে মানজু, হাওলাদার ও রশিদের নাম সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির অন্য শাখার নেতৃত্বাধীন দুইজন নেতা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। অনিসুল ইসলাম মাহমুদ, শাখার চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-৫ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং ইতিমধ্যে নামপত্র দাখিল করেছেন। একই শাখার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু কিশোরগঞ্জ-৩ থেকে প্রার্থী হয়েছেন এবং তার নামপত্রও দাখিল করা হয়েছে।
এনডিএফের তিনজন শীর্ষ নেতার প্রত্যাহার জোটের নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের অনুপস্থিতি নির্দিষ্ট আসনে জোটের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষত পিরোজপুর-২, বরিশাল-১, ঢাকা-১০ ও গোপালগঞ্জ-৩ এলাকায়। জোটের অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত বিকল্প প্রার্থী উপস্থাপন করতে হবে যাতে ভোটারদের সমর্থন বজায় রাখা যায়।
জাতীয় পার্টির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন ও দাখিলের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। জোটের নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্বাচনী সময়সীমা কাছাকাছি আসায় কৌশলগত সমন্বয় প্রত্যাশিত।
এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা নির্বাচনী তালিকায় পরিবর্তন ও নতুন প্রার্থীর উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে প্রতিটি গোষ্ঠীর সংগঠন ক্ষমতা, প্রার্থী নির্বাচনের সময়সীমা মেনে চলা এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনের ওপর। ভবিষ্যতে এনডিএফের ভূমিকা ও জোটের সমন্বয় কেমন হবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



